উত্তাল সাগর, পাঁচ দিন ধরে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সন্দ্বীপ, আটকা পড়েছে যানবাহন ও যাত্রী
![]()
নিউজ ডেস্ক
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ রাখায় চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ টানা পাঁচ দিন ধরে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটের ফেরি সেবা এবং দ্বীপ ও মূল ভূখণ্ডের মধ্যকার অন্যান্য সব নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে হাজার হাজার বাসিন্দা, নিয়মিত যাতায়াতকারী ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় কুমিরা ও গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে শতাধিক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়ি আটকা পড়েছে। এর ফলে ট্রাকে থাকা পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফেরিঘাটে হোটেল, বিশ্রামাগার, শৌচাগার ও গোসলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চালক ও পরিবহন শ্রমিকরাও।
আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে নৌ চলাচল
নৌ চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপ-পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) নয়ন শীল।
তিনি বলেন, ‘সাগর খুব উত্তাল থাকলে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি থাকে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সমুদ্রপথের সব ধরনের পরিবহন বন্ধ রাখা হয়। সংকেত না নামানো পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে।’
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে সীমিত পরিসরে স্পিডবোট ও ট্রলার চললেও আবহাওয়া আরও খারাপ হলে তা-ও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নৌ যাতায়াত বন্ধ থাকায় দ্বীপের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। জরুরি রোগী, বিদেশগামী প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সাপ্তাহিক ছুটির পর প্রথম কর্মদিবস রোববারে অনেক সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী মূল ভূখণ্ডে তাদের কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি।
চট্টগ্রাম শহরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, এমন রোগীদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। সময়মতো দ্বীপ ছাড়তে না পারায় বেশ কয়েকজন বিদেশগামী যাত্রীর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট মিস হয়ে গেছে। এতে তাদের ভিসার মেয়াদ ও ছুটির সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় নৌ চলাচল বন্ধ রাখা অনিবার্য ছিল।
টিবিএসকে তিনি বলেন, ‘আবহাওয়ার ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। গত কয়েক দিন ধরে সব নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জরুরি রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
সতর্ক সংকেত বহাল
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সোমবার সকালে জানিয়েছে, উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে।
তবে এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের আধিক্য বিরাজ করছে, যার ফলে ঝোড়ো আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
সাগর উত্তাল থাকায় এবং সতর্ক সংকেত বহাল থাকায় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সন্দ্বীপে ফেরি ও অন্যান্য নৌ চলাচল শুরু করা সম্ভব নয়।
সাগর কবে নাগাদ নৌ চলাচলের উপযোগী হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। ফলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্বীপটির যোগাযোগ ব্যবস্থা কবে স্বাভাবিক হবে, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।