বাংলাদেশে ডিজেল-বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের দাবি ভারতীয় চাকমা নেতাদের

বাংলাদেশে ডিজেল-বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের দাবি ভারতীয় চাকমা নেতাদের

বাংলাদেশে ডিজেল-বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের দাবি ভারতীয় চাকমা নেতাদের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির কয়েকজন চাকমা নেতা। একই সঙ্গে ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রামকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনাকে তারা ‘ঐতিহাসিক ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে চাকমা নেতারা এসব দাবি জানান। বিবৃতিতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কথিত অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে চাকমা নেতারা ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, শেখ হাসিনা ও কথিত পলাতক অন্যান্য ব্যক্তিসহ শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না—এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন তারা। ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত বছরে বাংলাদেশে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

চাকমা নেতারা দাবি করেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিলে ভারত বাংলাদেশে ৩০ হাজার টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করেছে।

এ ছাড়া ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি গোষ্ঠীর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধেরও দাবি জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে প্রায় ২২৫ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

চাকমা নেতাদের যুক্তি, ভারতের নিজস্ব জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশে এসব সরবরাহ অব্যাহত রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে ঘিরে কথিত শর্তেরও সমালোচনা করা হয়। এসব শর্তকে ভারতের জন্য ‘অপমানজনক’ বলে মন্তব্য করেন তারা।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়েও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ দাবি করেছেন চাকমা নেতারা। তাদের দাবি, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা এবং ওই অঞ্চলটি পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলো তৎকালীন সময়ে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল এবং ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট রাঙামাটিতে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন চাকমা স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদের সদস্য ও বিধায়ক রসিক মোহন চাকমা, হিউম্যানিটি প্রোটেকশন ফোরামের সভাপতি গৌতম চাকমা, অরুণাচল প্রদেশের চাকমা-হাজং এল্ডার্স ফোরামের প্রীতিময় চাকমা এবং চাকমা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সুহাস চাকমা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *