ভয়াবহ সাইবার আক্রমণের মুখোমুখি ইউক্রেন, সীমান্তে রাশিয়ার লক্ষাধিক সেনা মোতায়েন - Southeast Asia Journal

ভয়াবহ সাইবার আক্রমণের মুখোমুখি ইউক্রেন, সীমান্তে রাশিয়ার লক্ষাধিক সেনা মোতায়েন

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

অজ্ঞাত সূত্র থেকে বড়সড় এক সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে ইউক্রেন। যাতে ইউক্রেনের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, “ভয় পাও, সর্বনিকৃষ্ট পরিণতির জন্য প্রস্তুত হও।”

ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া লক্ষাধিক সেনা মোতায়েন করার পর আসে এই সাইবার আক্রমণ। একে সম্ভাব্য যুদ্ধের আলামত হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ শুক্রবার রাশিয়া এবং পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হয়েছে এই সাইবার আক্রমণ। এর আগে, সর্বশেষ ২০১৪ সালে ইউক্রেন দখলের জন্য অভিযান পরিচালনা করেছিল মস্কো।

ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল কার্পেন্টার বৃহস্পতিবারের আলোচনা শেষে বলেন, “যুদ্ধের ডামাডোল বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে।”

ইউক্রেন আক্রমণের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করলেও রাশিয়া বলেছে, তাদের দাবিগুলো পূরণ না হলে অনির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে তারা। মস্কোর একটি অন্যতম দাবি হচ্ছে, ন্যাটো জোটগুলো যেন কিয়েভকে কখনই স্বীকৃতি না দেয়।

শুক্রবার রাশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা আলোচনা আবার শুরু হবে বলে আশা করছেন তিনি। তবে মস্কোর প্রস্তাবে ওয়াশিংটন কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তার ওপর নির্ভর করবে সেই আলোচনা।

এদিকে সাইবার আক্রমণের তদন্ত করছে ইউক্রেন সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রীসভা এবং প্রতিরক্ষা কাউন্সিলসহ ৭০টি সরকারি ওয়েবসাইটে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। এ ব্যাপারে মস্কোকে সরাসরি দায়ী না করলেও রাশিয়াকে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।

হ্যাক হওয়া সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে ইউক্রেনীয়, রাশিয়ান এবং পোলিশ ভাষায় লেখা ছিল, “ইউক্রেনীয়রা! তোমাদের সমস্ত ব্যক্তিগত ডাটা পাবলিক নেটওয়ার্কে আপলোড করা হয়েছে। তোমাদের কম্পিউটারের সমস্ত ডাটা ধ্বংস হয়ে গেছে, এবং এগুলো পুনরুদ্ধার করা আর সম্ভব না।

“তোমাদের সমস্ত তথ্য এখন পাবলিক হয়ে গেছে। ভয় পাও এবং সর্বনিকৃষ্ট পরিণতির জন্য প্রস্তুত হও।”

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, হামলার পিছনে কারা ছিল তা এখনই বলা যাচ্ছে। তবে রাশিয়া অতীতে এই ধরনের হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত সাইটই পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে তারা এবং কোনো ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়নি। হামলার বিস্তার ঠেকাতে কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইট স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।