বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশিদের লিজের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি
![]()
নিউজ ডেস্ক
চট্টগ্রাম বন্দরের একমাত্র বিশ্বমানের কনটেইনার টার্মিনাল ‘নিউমুরিং টার্মিনাল’ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’। শুক্রবার বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকার রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সরকার আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিউমুরিং টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে কনসেশন চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’ এই সিদ্ধান্তকে দেশবিরোধী ও আত্মঘাতী আখ্যা দিয়ে তা থেকে অবিলম্বে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কেবল টার্মিনাল অপারেটর হিসেবে নয়, বরং কনসেশনিয়ার হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে, যা আফ্রিকান মডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা, দেশীয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। তারা আরও বলেন, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিডে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে।
সমাবেশে জানানো হয়, বর্তমানে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল থেকে প্রতি কনটেইনারে গড়ে প্রায় ১৬১ মার্কিন ডলার রাজস্ব অর্জিত হলেও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি হলে তা কমে আনুমানিক ২২ থেকে ২৫ মার্কিন ডলারে নেমে আসতে পারে। এতে বছরে কেবল কনটেইনার হ্যান্ডলিং খাতেই দেশের কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।

বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর বিদেশি কনসেশনিয়ারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। পাশাপাশি মাত্র ১০ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পাদনের অস্বাভাবিক তৎপরতা যথাযথ যাচাই-বাছাই নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সমাবেশে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক দিক তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড I2U2 (India, Israel, UAE, USA) মাল্টিলেটেরাল কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর তাদের হাতে গেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরোক্ষ প্রভাব ও দরকষাকষির ক্ষমতা নিশ্চিত হতে পারে, যা যে কোনো সময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকিতে ফেলতে সক্ষম। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা মেশিন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। উদাহরণ হিসেবে সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের বন্দরের প্রসঙ্গ টেনে বক্তারা বলেন, বাস্তবে এসব দেশে কোনো কনটেইনার টার্মিনাল এককভাবে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে নিউমুরিং টার্মিনালকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান এবং দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’-এর আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত, দপ্তর সদস্য মো. সাইফুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় এর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।