‘মিয়া মুসলমানদের হয়রানি’ মন্তব্যে সরব ওয়াইসি, হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে তীব্র আক্রমণ
![]()
নিউজ ডেস্ক
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ‘মিয়া মুসলমানদের হয়রানি’ সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তিনি মন্তব্যগুলোকে অসাংবিধানিক, বিভাজনমূলক এবং ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেন।
শুক্রবার এক প্রতিক্রিয়ায় হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে বিদ্রূপ করে ওয়াইসি বলেন, “আমি আপনাকে ভিক্ষা হিসেবে দুই রুপি দিতে চাই।” তার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী সংবিধানভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে বিদ্বেষ ও ভয়ভীতির রাজনীতিতে নামিয়ে এনেছেন। ওয়াইসি বলেন, ভারতের সংবিধান ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য সমতা ও বৈষম্যহীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং কোনো মুখ্যমন্ত্রীরই নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অধিকার নেই। তিনি বলেন, “সংবিধান বলছে সবাই সমান। মুখ্যমন্ত্রী হোন বা অন্য কেউ—কেউই বৈষম্য করতে পারে না।”
এআইএমআইএম প্রধান অভিযোগ করেন, আসামে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের নিয়মিতভাবে নানা সমস্যার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। ওয়াইসি বলেন, “আসামে সবজির দাম বাড়লেও দোষ দেওয়া হয় মিয়া মুসলমানদের। কেউ ভোট দিতে চাইলে তাকে বাংলাদেশে চলে যেতে বলা হয়।” তার দাবি, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য একটি সম্পূর্ণ সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কলঙ্কিত করা হচ্ছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই ওয়াইসির এই মন্তব্য। আসামের মুখ্যমন্ত্রী এক বক্তব্যে বলেছিলেন, “যেকোনো উপায়ে মিয়া মুসলমানদের হয়রানি করুন। তারা সমস্যায় পড়লে আসাম ছেড়ে চলে যাবে। আমরা সরাসরি মিয়া মুসলমানদের বিরোধী। আমরা কিছু লুকাচ্ছি না।” এই বক্তব্য ঘিরেই রাজ্যটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচনমুখী আসামে বিষয়টি রাজনৈতিক ঝড় তুলেছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, ভোটে সুবিধা নিতে বিজেপি প্রকাশ্য সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের পথ বেছে নিয়েছে। সমালোচকদের মতে, একজন সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের ভাষা নজিরবিহীন এবং এটি সমাজে আরও গভীর বিভাজন তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, বিজেপি বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে যে আসামে তাদের অবস্থান অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে কেন্দ্রিভূত। রাজনৈতিক ভাষ্যে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের প্রায়ই ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরেই আসামের নির্বাচন ও পরিচয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যু।
প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব, অভিবাসন ও সংখ্যালঘু অধিকার ঘিরে আসামে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও আসাদুদ্দিন ওয়াইসির এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।