কুকি অধ্যুষিত এলাকায় বিক্ষোভ বাড়ায় শান্ত থাকার আহ্বান মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর

কুকি অধ্যুষিত এলাকায় বিক্ষোভ বাড়ায় শান্ত থাকার আহ্বান মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর

কুকি অধ্যুষিত এলাকায় বিক্ষোভ বাড়ায় শান্ত থাকার আহ্বান মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মণিপুরে জনপ্রতিনিধিদের সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে কুকি অধ্যুষিত এলাকায় চলমান বিক্ষোভ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যুমনাম খেমচন্দ সিং। তিনি সতর্ক করে বলেন, সহিংসতার পথে গেলে তা সংকটাপন্ন রাজ্যে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার একদিন পর সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন যুমনাম খেমচন্দ সিং। বৈঠকে রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় তিনি জানান, জনপ্রতিনিধিদের সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় কুকি-জোমি সম্প্রদায়ের বিধায়কদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে কুকি অধ্যুষিত জেলাগুলোতে বনধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কুকি অধ্যুষিত চুরাচাঁদপুর জেলায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বিভিন্ন উপজাতীয় সংগঠনের ডাকে জেলায় সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, কুকি-জো-হমার সম্প্রদায়ের বিধায়কদের ‘জোরপূর্বক’ সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হচ্ছে, যা সম্প্রদায়ের স্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চুরাচাঁদপুরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্তর্ভুক্ত কুকি বিধায়ক নেমচা কিপগেনের বাসভবনের সামনেও বিক্ষোভ হয়। এছাড়া কাংপোকপি ও তেংনৌপাল জেলাতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী যুমনাম খেমচন্দ সিং বলেন, তিনি জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করেছেন এবং অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সম্প্রদায়েরই সহিংসতার আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই এবং সব সমস্যার সমাধান সংবিধান ও আইনের মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সহমর্মিতাই আমাদের মূল নীতি। সবার জন্য উন্নত জীবনের সম্ভাবনাকে আমরা ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাই না। আমি সবাইকে শান্ত থাকার, সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকার জন্য আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।”

এদিকে বিক্ষোভকারীরা চুরাচাঁদপুর জেলার তিন বিধায়ক—নেমচা কিপগেন, এল এম খাউটে ও এন সানাতে—এর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। তারা সবাই বিজেপির বিধায়ক এবং ওই জেলার বাসিন্দা।

একই দিনে কুকি জো কাউন্সিল (কেজেডসি) দাবি করেছে, এসব বিধায়ক ১৩ জানুয়ারির ‘লুংথ রেজুলেশন’ লঙ্ঘন করেছেন। সংগঠনটির দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে আইনসভাসহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ওই প্রস্তাবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সহিংসতা শুরু হলে রাজ্যটিতে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। কুকি-জো জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবির মধ্যেই বুধবার যুমনাম খেমচন্দ সিং মণিপুরের ১৩তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। একই সঙ্গে কংগ্রেস বিধায়ক দিখো ফাও-ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অংশ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। প্রসঙ্গত, রাজ্যে স্থিতিশীল সরকার গঠন ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এখনো মণিপুর প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *