প্রদ্যোত বিক্রমের টিপরা মোথার ‘আর্থিক অনিয়ম’ অভিযোগ ফাঁস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর

প্রদ্যোত বিক্রমের টিপরা মোথার ‘আর্থিক অনিয়ম’ অভিযোগ ফাঁস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর

প্রদ্যোত বিক্রমের টিপরা মোথার ‘আর্থিক অনিয়ম’ অভিযোগ ফাঁস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) পরিচালনায় গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে টিপরা মোথা পার্টির বিরুদ্ধে সব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্যের নেতৃত্বাধীন টিপরা মোথা পরিষদের ভেতরে ঘটে যাওয়া প্রতিটি অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাজ্য সরকার অবগত বলেও দাবি করেন তিনি।

গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আর্থিক শৃঙ্খলার অভাবের কারণেই টিটিএএডিসি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশন দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তার ভাষায়, এটি পরিষদের তহবিল ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতার প্রমাণ। তিনি অভিযোগ করেন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে পেনশন না পেয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

খুমুলুংয়ে অবস্থিত স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের সদর দপ্তরের প্রসঙ্গ টেনে মানিক সাহা বলেন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশনের জন্য কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার কোনো অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেয় না। বরং পরিষদের নিজস্ব বরাদ্দ থেকেই শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যয়ের মাধ্যমে পেনশন প্রদান করার কথা। কিন্তু আর্থিক অনিয়মের কারণে সেই দায়িত্ব পালনে পরিষদ সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গ্রাম কমিটি নির্বাচন নিয়েও টিপরা মোথা পরিচালিত পরিষদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনি বিধান উপেক্ষা করে পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি এবং নতুন গ্রাম কমিটি গঠনের অজুহাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৫৮৭টি গ্রাম কমিটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গ্রাম কমিটি নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার নির্ধারিত সময়ে উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে, রিয়াং শরণার্থী পুনর্বাসন ইস্যুতে টিপরা মোথার কৃতিত্ব দাবিকেও নাকচ করেন মানিক সাহা। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রামের পর এই পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো ব্যক্তি বা দল যেন রাজনৈতিক স্বার্থে এর কৃতিত্ব দাবি না করে।

এছাড়া এনএলএফটি ও অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (এটিটিএফ)-এর আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও টিপরা মোথার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শান্তিচুক্তির আওতায় আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ২৫০ কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হচ্ছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে ৪১৩ জন নেতাকর্মী বিজেপি-আইপিএফটি জোটে যোগ দেওয়াকে রাজ্য রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা।

প্রসঙ্গত, টিপরা মোথা প্রধান প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্যে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকিটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ব্যাপকহারে বিতর্কিত মন্তব্য করেও নতুন আলোচনার জন্ম দেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।