মণিপুরের উখরুলে দুই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি
![]()
নিউজ ডেস্ক
মণিপুরের উখরুল জেলায় তাংখুল ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলার লিতান গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক পাথর নিক্ষেপ শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং কয়েক দফা গুলির শব্দও শোনা যায় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উখরুলের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশিস দাস ভারতীয় ন্যায় সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) ২০২৩-এর ১৬৩ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদেশে বলা হয়, শান্তি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ মানুষের ঘরের বাইরে চলাচল এবং যেকোনো ধরনের জনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। তবে সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবেন।
জেলা প্রশাসনের আদেশে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের অস্থিরতা জনশান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। সে কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।
কর্মকর্তারা জানান, শনিবার রাত থেকেই ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অভিযোগ রয়েছে, লিতান গ্রামে তাংখুল সম্প্রদায়ের এক সদস্যকে সাত থেকে আটজন ব্যক্তি মারধর করে। পরে ভুক্তভোগীর পরিবার ও লিতান সারেলখং গ্রামের প্রধানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি প্রথাগত নিয়মে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং রোববার একটি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল।
তবে নির্ধারিত বৈঠকে ভুক্তভোগীর পরিবার উপস্থিত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী সাইবুং গ্রামের কিছু লোক লিতান সারেলখং গ্রামের প্রধানের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সরে যাওয়ার সময় লিতান থানার আশপাশ দিয়ে যাওয়ার পথে অন্তত সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, মণিপুরে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ ও সহিংসতার কারণে গত কয়েক বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বারবার অস্থির হয়ে উঠছে, যার প্রভাব পড়ছে রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।