জান্তার বিমান হামলায় জ্বালানি জোগান: নতুন নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জাস্টিস ফর মিয়ানমারের
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে বিমান জ্বালানি সরবরাহে জড়িত জাহাজ ও কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার (JFM)। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সরকারগুলোর প্রতি এ আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, এই সরবরাহ শৃঙ্খলই বেসামরিক মানুষের ওপর প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালানোর সক্ষমতা জোগাচ্ছে।
জেএফএমের দাবি, জেট ফুয়েলের বাণিজ্য ২০২৫ সালে নজিরবিহীন হারে বিমান হামলা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে, যখন জান্তা একটি “ভুয়া নির্বাচন” আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংগঠনটি জানায়, বিমান হামলায় স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায় আঘাত হানা হয়েছে; এতে শিশু নিহত হয়েছে এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে।
মিয়ানমা পোর্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মিয়ানমারে জেট ফুয়েল আমদানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে—৬৪ হাজার ৫৬২ টন থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০৪ টনে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক তদন্তে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও রয়টার্স জানিয়েছে, এসব চালানের কিছু ইরানের তথাকথিত “শ্যাডো ফ্লিট” বা গোপন নৌবহরের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে।
জেএফএম বলেছে, শুধু জাহাজ নয়—এসব জাহাজের মালিক, সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক অবকাঠামো, জ্বালানি টার্মিনাল এবং মিয়ানমারের বিমান জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ করা উচিত।
সংগঠনটির ভাষ্য, “এতে শুধু বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা চালানোর জান্তার সক্ষমতা ব্যাহত হবে না, একই সঙ্গে ইরানের জ্বালানি রপ্তানির সক্ষমতা সীমিত করার বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাও জোরদার হবে—যে সময়ে ইরান সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে গণহত্যামূলক দমন-পীড়ন চালিয়েছে।”
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল–এর গবেষণার বরাত দিয়ে জেএফএম চারটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে—Baraawe 1, LS Mercury, Reef এবং Noble। সংগঠনটির দাবি, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এসব জাহাজ একাধিকবার মিয়ানমারে বিমান জ্বালানি সরবরাহ করেছে।
Reef, Noble এবং Sea Route Ship Management FZE–কে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ করে।
তবে জেএফএমের অভিযোগ, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া জান্তার সরবরাহ শৃঙ্খলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ শুরু করার পর থেকে জান্তা ও তাদের সহযোগীরা নতুন কৌশলে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে জ্বালানি চালান গোপন করার চেষ্টা করছে।
সংগঠনটি জাহাজগুলোর মালিক ও ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়া রোধ করা যায় এবং শক্ত বার্তা দেওয়া সম্ভব হয়।

জেএফএম সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভিয়েতনামভিত্তিক কয়েকটি জাহাজ মালিক ও ব্যবস্থাপনা কোম্পানির নাম উল্লেখ করেছে। এছাড়া ভিয়েতনামের Cai Mep Petroleum Terminal পরিচালনাকারী Hai Linh Co. Ltd.–এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হয়েছে, যারা নাকি বিমান জ্বালানির চূড়ান্ত গন্তব্য মিয়ানমার গোপন করতে পুনরায় রপ্তানি (ট্রান্স-শিপমেন্ট) সহজতর করেছে।
এছাড়া জান্তা-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রায়ত্ত Myanma Petrochemical Enterprise–এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মিয়ানমারে বিমান জ্বালানির উৎপাদন, আমদানি ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
জেএফএমের মুখপাত্র ইয়াদানার মাউং বলেন, “ভিয়েতনাম থেকে ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত সরবরাহ শৃঙ্খল মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর আকাশপথে হামলা চালানোর সক্ষমতা জোগাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছানো প্রতিটি বিমান জ্বালানির চালান তাদের যুদ্ধবিমানকে আকাশ থেকে জনগণকে আতঙ্কিত করার সুযোগ দেয়। তবে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কেবল কানাডাই মিয়ানমারে বিমান জ্বালানির রপ্তানি, বিক্রয়, সরবরাহ ও পরিবহন এবং সংশ্লিষ্ট শিপিং বীমা নিষিদ্ধ করেছে। অন্য দেশগুলোকেও একই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বেসামরিক জাতীয় ঐক্য সরকার National Unity Government (NUG)–এর মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অভ্যুত্থানের পাঁচ বছরে জান্তার বিমান হামলায় ৪ হাজার ৮৫৩ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৬৪২ জন আহত হয়েছেন।
জেএফএম মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, “জান্তার হত্যাযজ্ঞে সহায়তা ও মুনাফা করা এসব জাহাজ ও কোম্পানির বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরই মিয়ানমারের মানুষের জীবন নির্ভর করছে।”
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।