মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা, সৌদি আরবের বিনিয়োগ আগ্রহ

মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা, সৌদি আরবের বিনিয়োগ আগ্রহ

মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা, সৌদি আরবের বিনিয়োগ আগ্রহ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে। জান্তা নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে, সৌদি আরব মিয়ানমারের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

মিয়ানমারে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মাজিয়াদ মোহাম্মদ এম. আল-হাউইশান বৃহস্পতিবার রাজধানী নেপিদোতে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। জান্তা সরকারের তথ্যমতে, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, সৌদি আরব তাদের অন্যতম। বর্তমানে হাজার হাজার মিয়ানমার নাগরিক দেশটিতে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মিয়ানমারের মুসলমান হজ পালনের জন্য মক্কায় যান।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে মিয়ানমারের জান্তা। এরপর থেকে গত কয়েক বছরে তারা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তেল ও গ্যাস প্রকল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে জান্তা সরকার।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে মিন অং হ্লাইং কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমাদ নাওয়াফ আল-আহমাদ আল-সাবাহর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে সেই আলোচনা সে সময় জান্তা সরকারের প্রচারধর্মী পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতার প্রধান খবর হয়েছিল।

জান্তা সরকার কাতারের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল আতিয়াহ নেপিদোতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ে এবং জ্বালানিমন্ত্রী খিন মং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রী কো কো লুইন সংযুক্ত আরব আমিরাতকে দেশটির সমুদ্র উপকূলবর্তী জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ২০২৩ সাল থেকে কুয়েতকেও জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এদিকে জান্তা সরকার ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করেছে। মিন অং হ্লাইং ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. নাসেরেদ্দিন হেইদারির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক করেছেন। এছাড়া অভ্যুত্থানের পর থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ে দুইবার ইরান সফর করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করেছেন। দুই দেশের মধ্যে অস্ত্র বিক্রি ও গোপন সামরিক সহযোগিতার খবরও এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

জান্তা সরকার যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে, তাদের অনেকেই চীন, রাশিয়া এবং ভারতের সঙ্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) ও ব্রিকসের মতো জোটে যুক্ত রয়েছে। মিয়ানমারের জান্তা সরকারও এসব জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনের জন্য ক্রমেই বেইজিং ও মস্কোর ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

বর্তমানে ইরান এসসিওর পূর্ণ সদস্য। আর কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং মিসর—মিয়ানমারের মতোই—সংস্থাটির সংলাপ অংশীদার। অন্যদিকে সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিসর ব্রিকসের সদস্য, যেখানে যোগ দেওয়ার আগ্রহ মিয়ানমারের জান্তা সরকার একাধিকবার প্রকাশ করেছে।

বর্তমানে মিয়ানমারের দূতাবাস রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, মিসর এবং ইসরায়েলে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।Set featured image