মণিপুরে ফের উত্তেজনা, নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

মণিপুরে ফের উত্তেজনা, নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

মণিপুরে ফের উত্তেজনা, নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টারস’-এর অন্যতম রাজ্য মণিপুর-এ চলমান অস্থিরতা বারবার উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে ভারত সরকার।

মাঠে নামার পর থেকেই কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে নিরাপত্তা বাহিনীকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাব্য প্রমাণ মুছে ফেলতে বেসামরিক বাড়িঘরে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবুও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুর জেলা-এর ট্রং ব্লাউবি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিংজামেই এলাকায় হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।

বিক্ষোভের আয়োজন করে অল মণিপুর ইউনাইটেড ক্লাবস অর্গানাইজেশন, মণিপুর স্টুডেন্টস ফেডারেশন, পেইরে লেইমারল আপন বাইরা পাইবি মণিপুর, অল মণিপুর উইমেন্স ভলেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন এবং কমিউনিটি অন হিউম্যান রাইটসসহ একাধিক সংগঠন।

এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ বাধে। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা সরে না যাওয়ায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সংঘর্ষে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বিষ্ণুপুরকে কেন্দ্র করে দুদিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় সংঘর্ষের ঘটনা।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং। তিনি দাবি করেন, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দ কেন্থজাম জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সময় প্রয়োজন।

সামগ্রিকভাবে মণিপুরে খ্রিস্টান কুকি সম্প্রদায় ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই জাতিগত সংঘাত এখন রাজ্য সরকারের গণ্ডি পেরিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, টানা সহিংসতা ও সংঘর্ষের কারণে মণিপুরের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *