দলে সক্রিয় না থেকেও বিএনপির নারী এমপি মনোনয়ন: বান্দরবানে মাধবী মারমাকে ঘিরে ক্ষোভ
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবানে বিএনপির কোনো পদে না থেকেও সংরক্ষিত নারী আসনে তিন পার্বত্য জেলার মহিলা সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনীত ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে তার নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়।
নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ‘তিনি দলের কোনো সদস্য নয়, দুঃসময়ে দলের আন্দোলন সংগ্রামে কখনো তাকে দেখা যায়নি, তিনি কখনো বিএনপির রাজনীতি করেননি, তার মতো একজনকে বিএনপির মহিলা এমপির মনোনয়ন দিয়ে বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলার ত্যাগী বিএনপি নেত্রীদের অপমান করা হয়েছে। এরকম হলে মানুষ আর বিএনপি করতে চাইবে না।’
‘ত্যাগ, শ্রম, মামলা, হামলা, নির্যাতন সহ্য করে যারা রাজনীতি করেছে- সুসময়ে তাদেরকে বাদ দিয়ে, দল করেনি, দলের কোনো পদে নেই এমন একজনকে মহিলা এমপির মনোনয়ন দেওয়াটা মোটেও উচিত হয়নি’ বলে মনে করেন বান্দরবান জেলার বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রশীদ বলেন, আমার জানামতে মাধবী মার্মা বান্দরবান জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে ছিলেন না। তবে মাঝে মাঝে তাকে বিএনপির মিছিল মিটিংয়ে দেখেছি। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। দলের হাই কমান্ড আছে তিনি ভালো বলতে পারবেন। কিভাবে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মাধবী মার্মার বাড়ী রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ডং নালা এলাকায় হলেও বৈবাহিক সূত্রে তিনি বান্দরবানের বাসিন্দা, বর্তমানে তিনি বান্দরবান শহরের উজানীপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। পেশায় তিনি একজন আইনজীবী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এলএলবি এবং এল এলএম পাশ করেন।
তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বান্দরবানে সহকারী আইন কর্মকর্তা ছিলেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য মনোনীত হয়ে এখনও দায়িত্ব পালন করছেন।
বান্দরবান জেলা বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা এক সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) মামলায় সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরের (এপিপি) দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় কার্যক্রমে তেমন সক্রিয় না থাকার পাশাপাশি তার দলীয় কোনো পদবীও ছিল না।
অন্যদিকে, বিএনপির অন্য প্রার্থীরা দলের দুঃসময়ে যেমন দলকে সময় দিয়েছিলেন তেমন নির্যাতিতও হয়েছিলেন। মনোনয়নে ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় দলীয় একাংশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনথি ইয়া লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মাধবী মারমা বিএনপির মহিলা এমপি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন। মাধবী মারমা ২০০৯-২০১৫ পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের দলীয় এপিপি ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আওয়ামী সরকার কর্তৃক মনোনীত নোটারি পাবলিকের আইনজীবী ছিলেন, আবারও অভিনন্দন আপু।’
বান্দরবান শ্রমিকদলের প্রচার সম্পাদক জগদ্বীপ বড়ুয়া বলেন, ‘মাধবী মারমা কোনো সময় দলের পক্ষে কাজ করেননি এবং তার কোনো পদ পদবিও ছিল না। নির্বাচনের সময় তিনি আসা যাওয়া শুরু করেন। এ নিয়ে দলীয় ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বান্দরবানের জিয়া সাইবার ফোর্সের যুগ্ম-আহ্বায়ক লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে এপিপি! অন্তরর্বর্তীতে জেলা পরিষদের সদস্য! বিএনপিতে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য! মাধবী মারমা সত্যি সে অসাধারণ মেধাবী! অভিনন্দন।’
এ বিষয়ে জানতে মাধবী মারমাকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনে বান্দরবান থেকে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। তারা হলেন, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি উম্মে কুলসুম লীনা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উমেসিং মার্মা, যুগ্ম সম্পাদক শিরিনা আক্তার ও মাধবী মার্মা। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন উম্মে কুলসুম লীনা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।