মিয়ানমারে নজরদারি ও হয়রানি বাড়ার আশঙ্কা, এনএলডি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ

মিয়ানমারে নজরদারি ও হয়রানি বাড়ার আশঙ্কা, এনএলডি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ

মিয়ানমারে নজরদারি ও হয়রানি বাড়ার আশঙ্কা, এনএলডি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ

২০২৬ সালের ১৭ই এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার পর নেপিডো-তে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইউ হ্তিন কিয়াও (বামে) এবং সামরিক বাহিনী কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি ইউ উইন মিন্ট।

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারে মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন নতুন ছদ্ম-বেসামরিক সরকার রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির রাজনীতিবিদ ও কর্মীরা। এ প্রেক্ষাপটে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)-এর অন্তত একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে গত সপ্তাহান্তে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যদিও পরে তাকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্টও রয়েছেন, যিনি এনএলডির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। যদিও দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ, তবুও এটি এখনো প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে সক্রিয় রয়েছে এবং দলটির সদস্যরা এখনো দলীয় প্রধান ও গণতন্ত্রপন্থী নেতা অং সান সু চিসহ সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির দাবিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

২০২০ সালের জাতীয় নির্বাচনে এনএলডি বিপুল জয় পেলেও পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির (সিইসি) সদস্য ডা. মিও নিয়ুন্টকে ১৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। তাকে একরাত আটকে রেখে পরদিন ছেড়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

ইয়াঙ্গুনভিত্তিক এক শিক্ষাবিদের মতে, প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্টের মুক্তি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণেই ডা. মিও নিয়ুন্টকে আটক করা হয়েছিল। এছাড়া তিনি অন্যান্য সিইসি সদস্যদের নিয়ে একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন, যারা সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউ হটিন কিয়াও ও তার পরিবারের সঙ্গে ইউ উইন মিন্টের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন।

বর্তমানে ইউ উইন মিন্টের বাসভবনসহ অন্যান্য সিইসি সদস্যদের বাড়ি কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। সেখানে প্রবেশ করতে চাইলে আগাম পরিচয় যাচাইসহ কঠোর নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। নতুনভাবে চালু হওয়া পিএসএমএস (Passenger Screening and Security Management System) প্রযুক্তিও এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী নেতাদের মুক্তির পর গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদার হওয়ার আশঙ্কায় সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এক সাবেক এশীয় কূটনীতিক বলেন, “সরকার বুঝতে পারছে, নিয়ন্ত্রণ শিথিল করলে তা বড় ধরনের জনসমাবেশে রূপ নিতে পারে, যা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সরকার অং সান সু চি ও তার দলের জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে তাকে মুক্তি দেওয়া হলে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতীতে তার মুক্তির সময় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল।

পর্যবেক্ষকদের মতে, অং সান সু চি কোনো সমঝোতায় যেতে রাজি হবেন না—যার মধ্যে মুক্তির প্রস্তাবও রয়েছে—যতক্ষণ না তিনি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সম্প্রতি দলের শীর্ষ নেতাদের ইউ উইন মিন্টের বাসায় একত্রিত হওয়া ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে সামরিক শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিরোধী নেতাদের ওপর নজরদারি ও দমন-পীড়নের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *