মণিপুরে কুকি-নাগা সংঘর্ষে আহত ৪, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনা

মণিপুরে কুকি-নাগা সংঘর্ষে আহত ৪, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনা

মণিপুরে কুকি-নাগা সংঘর্ষে আহত ৪, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের মণিপুর রাজ্যের উখরুল জেলায় সশস্ত্র কুকি ও নাগা গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে নাগা ভিলেজ গার্ডের (এনভিজি) চার সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার সকাল প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রিংগুই ভিলেজ প্রোটেকশন কমিটির তথ্য ও প্রচার শাখা এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, “সাসপেনশন অব অপারেশন (এসওও) চুক্তির আওতায় থাকা কুকি সন্ত্রাসীরা” উন্নত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রিংগুই নাগা গ্রামের আওতাধীন রিংগুই হোরেই এলাকায় টহলরত এনভিজিদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত দুইজন এনভিজি গুরুতর আহত হন।

কমিটি এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া গোলাগুলি এ রিপোর্ট তৈরির সময়ও চলমান ছিল, যা স্থানীয় নিরীহ গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা অভিযোগ করে, এটি ওই এলাকায় প্রথম হামলা নয়; ধারাবাহিক এমন আগ্রাসনের কারণে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিচ্ছিন্ন গুলি, ঘরবাড়ি ধ্বংস, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

কমিটি আরও সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের হামলা কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা মণিপুরের শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিংগুই ও আশপাশের এলাকায় দ্রুত শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, উখরুলের কুকি সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস (সিএসও) ওয়ার্কিং কমিটি ভিন্ন দাবি তুলে জানিয়েছে, কুকি গ্রামে নতুন করে হামলার একটি প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সংঘাতের পেছনের কারণগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তারা উল্লেখ করে, মুলাম কুকল গ্রামে হামলার মাত্র চার দিনের মাথায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্ভরযোগ্য স্থানীয় সূত্রের বরাতে তারা দাবি করে, কাম্পা মল (মাউন্ট কম্পাস) রিজ এলাকায় সন্দেহভাজন তাংখুল সশস্ত্র উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়, যা কুকি গ্রামগুলোর যৌথ চাষের জমি হিসেবে পরিচিত।

এ তথ্যের ভিত্তিতে কুকি গ্রাম স্বেচ্ছাসেবীরা নিরাপত্তা টহল পরিচালনা করলে তারা ওই এলাকায় প্রবেশকারী সশস্ত্র তাংখুল উপাদানের মুখোমুখি হয়। এর ফলে সকাল প্রায় ১১টা ১০ মিনিটের দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয় বলে দাবি করা হয়।

কুকি কমিটি প্রশ্ন তোলে, কিছু তাংখুল সিভিল সোসাইটি নেতা গণমাধ্যমে নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে কুকি অধ্যুষিত এলাকায় তাদের সশস্ত্র উপস্থিতি কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। তারা অভিযোগ করে, একদিকে শান্তির কথা বলা হলেও অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে আগ্রাসী কার্যক্রম ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তারা আরও দাবি করে, বাস্তবতা বিকৃত করে কুকি গ্রামগুলোকে বলপ্রয়োগে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চলছে। যদিও কুকি জনগোষ্ঠী শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে, তবে নিজেদের ভূমি, অধিকার ও জনগণ রক্ষার প্রশ্নে তারা আপসহীন থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, মণিপুরে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।