সিএএ কার্যকর করলেন শুভেন্দু, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা

সিএএ কার্যকর করলেন শুভেন্দু, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা

সিএএ কার্যকর করলেন শুভেন্দু, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ) কার্যকর করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার (২০ মে) বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় নবান্নে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। এছাড়া সীমান্ত সুরক্ষা করতে বিএসএফের হাতে রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার জমিও তুলে দিয়েছেন শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের বরাতে আনন্দবাজার জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্যছাড়া করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গে নতুন আইন কার্যকর করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু বলেন, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অন্তর্ভুক্ত নন, তাদের গ্রেফতার করে সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে। শুভেন্দুর বক্তব্য, গত বছর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই মর্মে একটি নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আগের সরকার তা কার্যকর করেনি। রাজ্যে প্রথম বার ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার ওই আইন কার্যকর করল।

নবান্নে সংবাদ সম্মেলনে বিএসএফ-এর কর্মকর্তারাও ছিলেন। এসময় সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর হাতে রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার জমি তুলে দেন শুভেন্দু। এরপর অনুপ্রবেশ নিয়ে কথা বলেন।

বিএসএফ-এর সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে আমরা রাজ্য এবং দেশকে সুরক্ষিত করব। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৪ মে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। আমাদের আগের সরকার এক দিকে শরণার্থীদের সিএএ (সুরক্ষা) দেওয়ার বিরোধিতা করেছে। অন্য দিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ আইনকে কাজে লাগায়নি। আজ থেকে এই আইন আমরা কার্যকর করলাম।

কারা এই আইনের আওতায় থাকবেন? কাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হবে? এই বিষয়ে শুভেন্দু বলেছেন, ‘‘সিএএ আইন অনুযায়ী, সাতটি সম্প্রদায়ের মানুষ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আসেন। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা এ রাজ্যে এসেছেন, তাদের পুলিশ কোনও হেনস্থা করতে পারবে না বা আটক করতে পারবে না। কিন্তু যারা সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত নন, তারা সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করবে এবং বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে। বিডিআর-এর (বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী) সঙ্গে কথা বলে তাদের দেশ থেকে বার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ, ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট। সীমান্ত সংলগ্ন সমস্ত থানায় এই আইন কার্যকর করলাম।।’’

রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ্যসচিবকে এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।
 
গত বছর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এতে জানানো হয়েছিল, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে পালিয়ে আসা, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানদের শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হবে। ভারত সরকার তাদের তাড়িয়ে দেবে না। এই নির্দেশনামা মোতাবেক, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে থেকে যেসব হিন্দু বাঙালি পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরায় এসেছেন, তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাক বা না-থাক, যদি তাদের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়েও যায়, তারা সবাই শরণার্থীর মর্যাদা পাবেন। ভারতে থাকতে পারবেন। ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কার্যকর হওয়া অভিবাসন এবং বিদেশি আইনের ৩৩ ধারা অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সংসদের বাজেট অধিবেশনে এই আইন পাশ হয়েছিল। প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় আইনটি পাশ করিয়ে নেয় মোদি সরকার।
 
পাশ হওয়ার আগে থেকেই আইনটি নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা করে আসছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, বাম, আম আদমি পার্টি-সহ বিরোধীরা। পাশ হওয়ার পর কোথাও যেমন এই আইন কার্যকর হওয়ার সমর্থনে উদযাপন করতে দেখা গেছে, আবার দেখা গেছে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভও।

সিএএ-কে কেন্দ্র করে বিরোধীরা দলগুলো ঘোষণা দিয়েছিল যে, নিজ নিজ রাজ্যে যে তারা এই আইন কার্যকর হতে দেবেন না। পশ্চিমবঙ্গের তখনকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেছিলেন, “একটা মানুষেরও অধিকার কেড়ে নিতে দেব না। আপনাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত হতে দেব না।”
 
এই আইনের মাধ্যমে বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরির অভিযোগ তুলে এটিকে তিনি অসাংবিধানিক বলেছিলেন। নিজের শাসনামলে আইনটি তিনি কার্যকর হতে দেননি।

তবে সবশেষ রাজ্যসভা নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয় নিয়ে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর আইনটি কার্যকর করলো বিজেপি।
  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed