১৯৯৬ সালে বিমান ভূপাতিত করার দায়ে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মামলা

১৯৯৬ সালে বিমান ভূপাতিত করার দায়ে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মামলা

১৯৯৬ সালে বিমান ভূপাতিত করার দায়ে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মামলা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

১৯৯৬ সালে ফ্লোরিডা ও কিউবার মধ্যবর্তী আকাশসীমায় দুটি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক এই কমিউনিস্ট নেতার বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ মিয়ামির ফ্রিডম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মামলা প্রকাশের ঘোষণা দেন। এটি মূলত ২০০৩ সালের একটি মামলার পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কিউবান-আমেরিকান সংগঠন ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রাউল কাস্ত্রো ও আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তিন মার্কিন নাগরিকসহ চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—আরমান্ডো আলেজান্দ্রে জুনিয়র, কার্লোস আলবার্তো কোস্টা, মারিও ম্যানুয়েল দে লা পেনা এবং পাবলো মোরালেস। ঘটনার সময় ৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন।

মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল। তিনি অভিযোগ করেন, কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের অজুহাত তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্র এই মামলাকে ব্যবহার করছে। কিউবা সে সময় নিজেদের জলসীমায় বৈধ আত্মরক্ষার স্বার্থে পদক্ষেপ নিয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার জনগণকে দেওয়া এক বার্তায় দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য কিউবান সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি ‘গায়েসা’ (GAESA)-কে দায়ী করেছেন। এর জবাবে দিয়াজ-কানেল যুক্তরাষ্ট্রকে মিথ্যাচার এবং কিউবার জনগণের ওপর যৌথ শাস্তি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মামলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, কিউবান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে এবং মানবিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে। সাবেক ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মতো রাউল কাস্ত্রোকে ধরে আনতে কোনো সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে তারা আশা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, একদলীয় কমিউনিস্ট শাসিত কিউবার ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের চাপ বাড়াতে এই মামলাকে একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। তবে কিউবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং কোনো ধরণের আপস না করার অবস্থানে অনড় রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *