ঢাকা থেকে ফেরার পথে ম্রো যুবককে অপহরণের অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ঢাকা থেকে ফেরার পথে ম্রো যুবককে অপহরণের অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ঢাকা থেকে ফেরার পথে ম্রো যুবককে অপহরণের অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

চংরুম ম্রো

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ঢাকা থেকে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বাড়ি ফেরার পথে চংরুম ম্রো নামে এক ম্রো যুবক অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপহরণকারীরা তাকে জীবিত ফেরত দিতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে জানিয়েছে পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অপহৃত চংরুম ম্রো গালেঙ্গা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুইফ পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মেম্প্রে ম্রো। তিন মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। গত মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।

পরদিন চংরুম ম্রো তার বাবা মেম্প্রে ম্রোর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। ফোনে তিনি বলেন, “আমি আসছি বাবা, ঢাকায় আছি।” এরপর পরিবারের সদস্যরা তার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকলেও দীর্ঘ ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি বাড়িতে পৌঁছাননি।

পরে প্রায় এক ঘণ্টা পর একটি অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে চংরুমের বাবার কাছে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, “আপনার ছেলে আমাদের হেফাজতে আছে। তাকে জীবিত ফেরত চাইলে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে।” এরপরই কলটি কেটে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে পরিবার ওই নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে চংরুম ম্রোর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

গালেঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো বলেন, “চংরুম ম্রো জীবনে প্রথমবারের মতো ঢাকা গিয়েছিলেন। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ও পরিবেশ সম্পর্কে তার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি প্রতারক বা চাঁদাবাজ চক্রের খপ্পরে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে চংরুম ম্রোকে উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তিনি।

চংরুমের বাবা মেম্প্রে ম্রো বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। আমাদের ছেলেকে জীবিত ফেরত চাই। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত তাকে উদ্ধার করুন এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনুন।”

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, চংরুম ম্রোর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থানায় এসে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি জানান, চংরুম ম্রোর অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।