বিএসএফকে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীদের ভারতে অবস্থানের তথ্য দিল বিজিবি

বিএসএফকে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীদের ভারতে অবস্থানের তথ্য দিল বিজিবি

বিএসএফকে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীদের ভারতে অবস্থানের তথ্য দিল বিজিবি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করে সেখান থেকেই তাদের সাংগঠনিক ও সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি বিজিবি ভারতের বিএসএফের কাছে এসব নেতার নাম, ছবি, সাংগঠনিক পরিচয় এবং সম্ভাব্য অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য হস্তান্তর করেছে বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেএসএসের সামরিক শাখার প্রধান হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মী প্রসাদ চাকমা বর্তমানে ভারতের মিজোরামে অবস্থান করছেন। একই সংগঠনের আরেক শীর্ষ কমান্ডার প্রণতি বিকাশ চাকমা পশ্চিম ত্রিপুরা থেকে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জেএসএসের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা মঙ্গল চাকমাও ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ইউপিডিএফের সামরিক শাখার প্রধান হিসেবে পরিচিত রবি শংকর চাকমা ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর প্রধান নাথান বম মিজোরামে আত্মগোপন করে আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও করুণালঙ্কার ভান্তে ওরফে মনোগীত জুম্মা, প্রজ্ঞা তাপস চাকমা (পিটি চাকমা) এবং সুহাস চাকমার মতো ব্যক্তিরাও ভারতের মাটিতে অবস্থান করে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা সমন্বয় করছেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে উল্লেখ করেছে। এবং এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভারতকে বলেছে বাংলাদেশ।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চল এবং ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা সীমান্ত ব্যবহার করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ দেশে প্রবেশ করছে। বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি, আলীকদম ও লামা এবং রাঙামাটির সাজেক, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি সীমান্তকে এসব রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের ওপারে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর নতুন সদস্যরা অস্ত্রসহ দেশে ফিরে আসে এবং বিভিন্ন সশস্ত্র কার্যক্রমে অংশ নেয়।
  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।
শুধু অস্ত্র নয়, এই নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখতে পাহাড়ে গড়ে উঠেছে একটি সমান্তরাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও। ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, পরিবহন মালিক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকেও নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও বিভিন্ন সময়ে ঘটেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অতীতে বিশেষ করে পলাতক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করলেও, বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে ভারত একই ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে সমালোচনা রয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু নিরাপত্তা নয়, দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সীমান্ত সহযোগিতার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
-ডিআরএফ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *