মিয়ানমারে বিশাল চারটি নতুন সমুদ্রগর্ভস্থ গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সামরিক সরকার চারটি নতুন সমুদ্রগর্ভস্থ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নতুন গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে মোট প্রায় ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে, যা মিয়ানমারের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
মিয়ানমারের সংবাদ মাধ্যম ইরাবতী জানিয়েছে, সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জান্তা সরকার জানায়, নতুন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি তানিনথারি উপকূলের গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থিত। সেখানে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আয়েয়ারওয়াদি অঞ্চলের নতুন একটি গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত থাকার কথা বলা হয়েছে।
যদিও সরকার নতুন ক্ষেত্রগুলোর নাম প্রকাশ করেনি, তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর ধারণা, ঘোষণার মধ্যে তানিনথারি অঞ্চলের এম-১৫ ব্লক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এ ব্লকে প্রায় ৯৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। আন্দামান সাগরে কাদান দ্বীপের কাছে অবস্থিত এ ব্লকটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস মজুতগুলোর একটি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এম-১৫ ব্লকের উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পেয়েছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক কানাডীয় প্রতিষ্ঠান কানাডিয়ান ফোরসাইট গ্রুপ। ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের আমলে প্রতিষ্ঠানটি মিয়ানমা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে। প্রতিষ্ঠানটির ২০১৭ সালের এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মিয়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের সমপরিমাণ রাজস্ব অর্জন সম্ভব হতে পারে। সে সময়ের বাজারদর অনুযায়ী গ্যাস মজুতের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ডলার।
মিয়ানমারের সামরিক সরকারের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, নতুন গ্যাস প্রকল্পগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা এবং শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।