খাগড়াছড়িতে মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বন গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার
![]()
নিউজ ডেস্ক
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক, সাহসী ও দূরদর্শী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি খাগড়াছড়ির সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশেষ থোক বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তবতার দিক থেকে খাগড়াছড়ি দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনটি পৌরসভা ও নয়টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই দুর্গম পার্বত্য জেলার উন্নয়নে সাধারণ আসনভিত্তিক বরাদ্দ যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, “এক বা দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত একটি সংসদীয় আসনের জন্য যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়, একই পরিমাণ বরাদ্দ দিয়ে নয়টি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত খাগড়াছড়ির মতো বিস্তীর্ণ পার্বত্য অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়।” এ কারণে জেলার জন্য পৃথক ও বিশেষ থোক বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
বক্তব্যে খাগড়াছড়ির স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নের বিষয়ও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য। তিনি পাহাড়ে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন, জেলা হাসপাতাল আধুনিকায়ন, একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বন গবেষণা কেন্দ্র গঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান।
পাহাড়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন ও অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই পার্বত্য অঞ্চলকে ‘পানিশমেন্ট জোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে অনেক কর্মকর্তা সেখানে দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী হন না। আবার কেউ পাহাড়ে থেকে কাজ করতে আগ্রহী হলে তাদের দ্রুত সমতলে বদলি করা হয়।
তিনি বলেন, “এই মানসিকতা থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে। পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য সেখানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের পানির সংকটের বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, পাহাড়ের চূড়া ও ঢালে বসবাসকারী অনেক মানুষকে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে প্রায় এক হাজার ফুট নিচ থেকে পানি সংগ্রহ করে উপরে তুলতে হয়, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটে পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিভিন্ন সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন, বাজেট বরাদ্দ এবং জাতীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।