রামগড়ে এক কর্মকর্তার কাঁধে ৪৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত হচ্ছে তদারকি

রামগড়ে এক কর্মকর্তার কাঁধে ৪৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত হচ্ছে তদারকি

রামগড়ে এক কর্মকর্তার কাঁধে ৪৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত হচ্ছে তদারকি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও মাঠপর্যায়ে জনবল সংকটের কারণে তার সুফল অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মাত্র একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ওপর ৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদারকির দায়িত্ব থাকায় নিয়মিত পরিদর্শন, একাডেমিক সহায়তা ও প্রশাসনিক নজরদারি ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রামগড়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ মোট তিনটি পদ থাকার কথা। তবে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলোর কারণে বর্তমানে একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকেই তিনজনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি ১৫ থেকে ২৫টি বিদ্যালয়ের জন্য একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। সে হিসাবে রামগড় উপজেলার ৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একাধিক কর্মকর্তা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে একটি পৌরসভা ও দুটি ইউনিয়নের সব বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন কর্মকর্তা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন কর্মকর্তার পক্ষে এতগুলো বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিদর্শন, পাঠদানের মান মূল্যায়ন, শিক্ষকদের একাডেমিক সহায়তা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি করা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে কোথাও শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে কি না, শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশে সমস্যা রয়েছে কি না কিংবা শিক্ষকরা প্রয়োজনীয় পেশাগত সহায়তা পাচ্ছেন কি না—এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক মানের ওপর।

রামগড়ে এক কর্মকর্তার কাঁধে ৪৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত হচ্ছে তদারকি

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির রামগড় উপজেলা সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়মিত নতুন নতুন নির্দেশনা দিচ্ছে। এসব বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পাঠদানের মানোন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় বিদ্যালয়গুলো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হ্যাপী চাকমা বলেন, “৪৭টি বিদ্যালয়ের মনিটরিং, বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ, শিক্ষকদের একাডেমিক সহায়তা, বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনা, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং বিদ্যালয়গুলোর অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব একাই পালন করতে হচ্ছে। একজন মানুষের পক্ষে এত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন।”

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল মৃধা বলেন, “রামগড়ে জনবল সংকটের বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিয়োগ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়গুলোর তদারকি আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”

শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই রামগড়ের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করে বিদ্যালয়গুলোর কার্যকর একাডেমিক তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed