টেকনাফে কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযানে ৫ কেজি আইস ও ৫ হাজার ইয়াবা জব্দ, সিএনজি চালক আটক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ক্রিস্টাল মেথ (আইস) ও ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ৫ কেজি আইস ও ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা বহনের অভিযোগে নেছারুল ইসলাম (৩৮) নামে এক সিএনজি চালককে আটক করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, উপকূলীয় সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার রোধে নাফ নদী ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই মাদক উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, মিয়ানমার থেকে ক্রিস্টাল মেথ (আইস)-এর একটি বড় চালান শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর গোলারচর এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ এবং আউটপোস্ট শাহপরীর সদস্যরা গোলারচর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পাচারকারীরা ঝাউবনের ভেতরে একটি পলিথিনে মোড়ানো পুটলি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পুটলিটি উদ্ধার করেন।
তল্লাশি শেষে পুটলির ভেতরে থাকা কয়েকটি চায়ের প্যাকেটে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৫ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদক আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য কোস্ট গার্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আইসের এই চালানটির সঙ্গে জড়িত মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পলাতক পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড।
অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহজনক সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গাড়ির ভেতর থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
ইয়াবা বহনের অভিযোগে সিএনজির চালককে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা ইয়াবা ও আটক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃত সিএনজি চালক নেছারুল ইসলাম টেকনাফের দমদমিয়ার নেছারিপার্ক এলাকার নবাব মিয়ার ছেলে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, উপকূলীয় সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের চেষ্টা প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, নাফ নদী, শাহপরীর দ্বীপ ও টেকনাফ উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, টহল এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক পাচারকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত মূল চক্রকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।