কাউখালীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের দাবি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবি, কাজ বন্ধ করে দেওয়া ও হুমকির অভিযোগ তুলেছেন কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সরবরাহকারী মো. ইসমাইল হোসেন। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উন্নয়নকাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি ৪ নম্বর কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি উন্নয়নকাজে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চাঁদা না দিলে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। এমনকি তাঁকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
ইসমাইল হোসেনের দাবি, পরবর্তী সময়ে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল কালাম, কলমপতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাছির এবং যুবদলের সাবেক নেতা সেলিমের নেতৃত্বে বহিরাগত লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিক ও কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করে উন্নয়নকাজে বাধা সৃষ্টি ও চাঁদা দাবি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে উন্নয়নকাজটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল কালাম। তিনি বলেন, অভিযোগকারীরা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই তাঁরা এসব অভিযোগ তুলছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরও তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় দুই পক্ষের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান উঠে এসেছে। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে উন্নয়নকাজে চাঁদা দাবি, কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উন্নয়নকাজ যাতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।