লামায় ২৪ বছর ধরে শিকলে বন্দি ‘বাহাদুর’, ভারী শ্রমে ব্যবহারের অভিযোগ

লামায় ২৪ বছর ধরে শিকলে বন্দি ‘বাহাদুর’, ভারী শ্রমে ব্যবহারের অভিযোগ

লামায় ২৪ বছর ধরে শিকলে বন্দি ‘বাহাদুর’, ভারী শ্রমে ব্যবহারের অভিযোগ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ২৪ বছর ধরে ‘বাহাদুর’ নামে একটি হাতিকে শিকলে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ৩৮ বছর বয়সী হাতিটিকে দীর্ঘদিন ধরে ভারী গাছ টানা ও কাটার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, কাজের তুলনায় হাতিটিকে পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হয় না। ফলে অনেক সময় আশপাশের পাহাড়ি এলাকার লতাপাতা খেয়েই ক্ষুধা মেটাতে হয় হাতিটিকে।

সম্প্রতি লামা সদর ইউনিয়নের দুর্গম ঝিলাপাড়া এলাকায় শিকলে বাঁধা অবস্থায় হাতিটির সন্ধান পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ‘বাহাদুর’ এভাবে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে দিয়ে ভারী গাছ টানা ও কাটার কাজ করানো হয়। কাজ শেষে ক্লান্ত অবস্থায় আবারও শিকলে বেঁধে রাখা হয় তাকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে ভারী শ্রমে ব্যবহারের কারণে হাতিটি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় অনেক সময় তাকে আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় থাকা লতাপাতা খেতে দেখা যায়। এ অবস্থায় হাতিটির শারীরিক সুস্থতা ও সার্বিক কল্যাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, শুধু ‘বাহাদুর’ নয়, লামা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আরও কয়েকটি হাতিকে শিকলে বন্দি রেখে শ্রমের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সদর ইউনিয়নের ঝিলাপাড়া, দোছড়ি ও চিংড়ি খালের আগাসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব হাতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় শিকলে বন্দি রেখে হাতিকে ভারী শ্রমে ব্যবহার করা হলে তার স্বাভাবিক চলাফেরা ও জীবনযাপন ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে এতে হাতির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন একইভাবে বন্দি অবস্থায় রাখার অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

তারা ‘বাহাদুর’সহ লামার বিভিন্ন এলাকায় বন্দি থাকা হাতিগুলোর বিষয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হাতিগুলোর নিরাপত্তা, যথাযথ খাবার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, হাতিগুলোকে শিকলে বন্দি রেখে শ্রমে ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হলেও দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ‘বাহাদুর’সহ অন্যান্য হাতিকে শিকলমুক্ত করা, তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা যাচাই এবং লামার দুর্গম এলাকায় বন্দি হাতি থাকার অভিযোগ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।