টেকনাফে পৌর কৃষক দলের আহ্বায়কসহ তিনজন আটক, ১০ হাজার ইয়াবা জব্দ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফে কোস্ট গার্ডের মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে টেকনাফ পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক মনির আলম প্রকাশ বাদশাও রয়েছেন। কোস্ট গার্ডের দাবি, তাঁর বসতবাড়িতে মাদক কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থানের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।
আটক অপর দুজন হলেন টেকনাফ সদর শীলবনিয়াপাড়া এলাকার শামসুল আলমের ছেলে কফিল উদ্দিন এবং মৌলভীপাড়া এলাকার আবুল বাশারের ছেলে রবি আলম। আটক মনির আলম প্রকাশ বাদশা টেকনাফ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার আবদুল গফুরের ছেলে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড জানায়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, টেকনাফ পৌরসভার ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনির আলম প্রকাশ বাদশার বাড়িতে মাদক কেনাবেচার উদ্দেশ্যে কয়েকজন অবস্থান করছেন। পরে কোস্ট গার্ডের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়িতে তল্লাশি করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১০ হাজার পিস ইয়াবা, নগদ ২ হাজার ২০০ টাকা ও চারটি মোবাইল ফোনসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কোস্ট গার্ড ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মনির আলম প্রকাশ বাদশাসহ তিনজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় কোস্ট গার্ড বাদী হয়ে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে ইয়াবাসহ দুই সহোদর আটক হওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়। রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছিল, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে নামার পর সন্দেহের ভিত্তিতে মো. রফিক আলম ও মনির হোসেন ওরফে ‘বাতাইন্না’কে আটক করা হয়। পরে তাদের ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে ২৬ হাজার ৬৩৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ছিল ৭৯ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা। পুলিশ জানিয়েছিল, রফিক আলম ও মনির হোসেন ওরফে বাতাইন্না আপন ভাই এবং তাদের বাড়ি টেকনাফ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকায়।
এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ রয়েছে, মনির আলম প্রকাশ বাদশা, তাঁর বাবা গফুর, বড় ভাই শফিক কোম্পানি এবং পরিবারের আরও কয়েকজনকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি মাদক চক্র পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মাদকের চালান সংগ্রহ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, মাদক পরিবহনে ওই চক্র কয়েকটি দামি গাড়ি ব্যবহার করে। নিজেদের রক্ষা করতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিচয় ও পদ-পদবি ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।