মিয়ানমারে পাচারকালে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে ট্রাকভর্তি ওষুধ জব্দ, আটক ৩

মিয়ানমারে পাচারকালে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে ট্রাকভর্তি ওষুধ জব্দ, আটক ৩

মিয়ানমারে পাচারকালে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে ট্রাকভর্তি ওষুধ জব্দ, আটক ৩
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় ট্রাকভর্তি বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা ওষুধের আনুমানিক সিজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর তুমব্রু বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্তবর্তী কাস্টমস মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ওষুধ জব্দ করে।

বিজিবি সূত্র জানায়, অভিযানের সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহজনকভাবে একটি ট্রাক চলাচল করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালান। পরে ট্রাকের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এ সময় এসব ওষুধ পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার পুরাতন পল্লানপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. হারুন মিয়া (২৬), বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উত্তর ঘুমধুম বড়ুয়াপাড়া গ্রামের বিপন বড়ুয়ার ছেলে জিদান বড়ুয়া (১৮) এবং কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার টিএনটি এলাকার মো. জয়নালের ছেলে মো. আকছার।

বিজিবির প্রাথমিক ধারণা, জব্দ করা ওষুধগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। তবে ওষুধগুলোর প্রকৃত উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সীমান্ত এলাকায় ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে পাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী তুমব্রু ও ঘুমধুম এলাকায় চোরাচালানের সম্ভাব্য রুটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ ধরনের অভিযান সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য পাচারের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালানসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের অবৈধ পণ্য পাচার হতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ওষুধ ও অন্যান্য মালামালের তালিকা প্রস্তুত এবং যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।