টেকনাফে মানবপাচারের বড় ধরনের অপচেষ্টা ভণ্ডুল, মালয়েশিয়া পাচারের আগে ১৭ জন উদ্ধার

টেকনাফে মানবপাচারের বড় ধরনের অপচেষ্টা ভণ্ডুল, মালয়েশিয়া পাচারের আগে ১৭ জন উদ্ধার

টেকনাফে মানবপাচারের বড় ধরনের অপচেষ্টা ভণ্ডুল, মালয়েশিয়া পাচারের আগে ১৭ জন উদ্ধার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে একটি বাড়িতে আটকে রাখা ১৭ জনকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি)। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

এসআরবি-১৫ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের সদস্যরা জানতে পারেন, সংঘবদ্ধ একটি মানবপাচারকারী চক্র সমুদ্রপথে এসব মানুষকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে একটি বাড়িতে আটকে রেখেছে। পরে শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে এসআরবি-১৫-এর একটি আভিযানিক দল দক্ষিণ লম্বরী এলাকার মো. ইব্রাহীমের বাড়িতে অভিযান চালায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়িতে থাকা কথিত পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৭ জন পুরুষকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে বান্দরবানের লামা এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা রয়েছেন।

এসআরবি-১৫ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মো. জাফর আলম, মো. নুরুল হুদা, মো. শাহিন শাহরিয়ার হৃদয়, মো. বেলাল, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সাফায়েত হোসেন, মো. মামুনুর রশিদ, মো. তাফসির, মো. আশরাফ হোসেন, মো. বাবুল, মো. আনসার উদ্দিন, মো. নুরুল আফসার, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. জোবায়ের ও মো. নুর মোস্তফাসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিদেশে পাঠানোর কথা বলে এসব মানুষকে ওই বাড়িতে জড়ো করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারী চক্রটি তাদের সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। তাদের জোর করে শ্রমে নিয়োজিত করার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযানের সময় পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১৫।

উদ্ধার হওয়া ১৭ জনকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআরবি-১৫ জানিয়েছে, সমুদ্রপথে অবৈধ মানবপাচার বন্ধে টেকনাফের উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি)-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।