মিয়ানমার কি পারবে ঝুঁকি নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে? - Southeast Asia Journal

মিয়ানমার কি পারবে ঝুঁকি নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে?

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

গত দুই মাসে মিয়ানমারের ৩টি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সম্মিলিতভাবে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়ায়। বিদ্রোহীদের সঙ্গে এ সংঘর্ষে কোনঠাসা হয়ে পড়ে সামরিক জান্তা বাহিনী। এ অবস্থায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছে, যে কোন সময় ভাগ হয়ে যেতে পারে মিয়ানমার। এ সংক্রান্ত জটিলতায় মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ঝুঁকিতে পড়বে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

মিয়ানমার বরাবরই নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রূপান্তরিত করতে চায়। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্ব করা। গতবছর একারণেই বাংলাদেশের সীমানায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেল আঘাত হানে। এই সহিংসতায় ১ জন মারা যায় এবং আরও ৫ জন আহত হয়। বাংলাদেশে চালানো এ হামলাও মিয়ানমারের একপ্রকার চাল বলে মত দেয় বিশেষজ্ঞরা। তবে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের কূটনৈতিককে ডেকে এ হামলার বিষয়ে জবাব চাইলে কূটনৈতিক বলেন, ‘এ হামলা আরাকান আর্মি চালিয়েছে এর সাথে মিয়ানমারের কোন যোগসূত্র নেই।‘

রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল রাখাইন রাজ্যকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের স্বার্থ জড়িত । রোহিঙ্গা সমস্যা প্রলম্বিত হলে এ অঞ্চলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সবার জন্য একটি উইন-উইন সিচুয়েশন তৈরি হবে। তবে এর বলির পাঁঠা হবে বাংলাদেশ।বাংলাদেশের সীমানায় দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে পারে মিয়ানমার। তাই মিয়ামারের এ হামলা পরিকল্পিত বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

রাখাইন অঞ্চলকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েকটি পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই বাস্তবায়ন করেছে চীন। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্র বন্দর, ইকোনমিক করিডোর, জ্বালানী সরবরাহ লাইন’সহ ইত্যাদি।

ভারত রাখাইন প্রদেশে চীন থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অরেকটি বন্দর তৈরি করছে। এ বন্দরের মাধ্যমে ভারত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭ টি অঙ্গরাজ্যের সাথে সহজে যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহণ করতে চায়। মিয়ানমারও চায় তাদের মাধ্যমে নিজ দেশের অবকাঠামো গড়ে উঠুক। রোহিঙ্গারা আবারও রাখাইনে ফিরলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে মনে করে মিয়ানমার।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা বসবাস করছে । বাংলাদেশের জন্য এ বিশাল জনগোষ্ঠিকে লালন-পালন করা দুঃসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশ চায় যতদ্রুত সম্ভব এদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে তবে মিয়ানমার এতে আগ্রহী না যা তাদের কর্মকান্ডেই বোধগম্য।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘মিয়ানমার এই ঝামেলার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দেরি করতে চায়। এছাড়া এ অঞ্চলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যার কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুটির কথা সবাই ভুলে যায়।’

মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আগ্রহী না তবে দেশটি তাদের অভ্যন্তরীন সংঘাত নিয়ে যে পরিস্থিতিতে পড়েছে তাতে করে মিয়ানমারের জন্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আটকানো এবার কঠিন হবে। গত একমাসে চীন ও ভারতের সাথে দুইটি সীমান্ত হারিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। সীমান্তগুলো এখন বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। মিয়ানমার যদি বাংলাদেশের সীমানায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন রুখতে উষ্কানিমূলক কর্মকান্ড চালায় তবে চীন ও ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তও তাদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের সীমান্ত হাতছাড়া হলে আরও বিপদে পড়বে মিয়ানমার জান্তা সরকার।

যদি বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমার সহিংসতা চালায় তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্ব হবে ঠকই কিন্তু এর ফলে সীমান্ত হারানোর ঝুঁকিও আছে দেশটির। এই অবস্থায় মিয়ানমার কি চাইবে ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্ব করতে?