কমেছে ঘুমধুম সীমান্তের গোলাগুলি, বাড়িতে ফিরছেন গ্রামবাসীরা - Southeast Asia Journal

কমেছে ঘুমধুম সীমান্তের গোলাগুলি, বাড়িতে ফিরছেন গ্রামবাসীরা

ফের মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত ৪কমেছে ঘুমধুম সীমান্তের গোলাগুলি, বাড়িতে ফিরছেন গ্রামবাসীরা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ঘুমধুম সীমান্তে গত এক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমার বর্ডার পুলিশ (বিজিপি) এবং আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্কে আছেন ওই অঞ্চলের মানুষ। তাই প্রশাসনের নির্দেশে সীমান্ত এলাকায় বাস করা অধিকাংশ মানুষ চলে যান নিকটাত্মীয়-স্বজনের বাসায়। আর ২৮টি পরিবারের ১৪০ জন সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন উত্তর ঘুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক ও শান্ত হওয়ায় আজ দুপুরের পর থেকে অনেকে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, গতকাল এবং আজকে সকাল হতে ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা অনেকটা স্বাভাবিক আছে। গোলাগুলির তেমন কোনও শব্দ শোনা যায়নি। গত কয়েকদিন ধরে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির কারণে আতঙ্কে ছিলেন এলাকাবাসী। তাই জেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে আমরা সীমান্ত লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্র চলে আসতে বলি। তবে আজ সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় দুপুরের পর থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আসা ২৮ পরিবারের অনেকে নিজেদের গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন।

মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধের কারণে সীমান্তের এপারে কয়েকদিন ধরে আতঙ্ক চলছে। ঘুমধুম ও পালংখালী সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের ছোড়া গুলি ও মর্টারশেলে গতকাল মঙ্গলবারও অন্তত পাঁচজনের আহত হয়েছেন। অনেকের বাড়িঘরে এসে গুলি পড়েছে। এর আগে মিয়ানমার থেকে উড়ে আসা মর্টারের গোলার আঘাতে এক বাংলাদেশি ও এক রোহিঙ্গা নাগরিক মারাও গেছেন।

সীমান্ত লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দারা জীবন বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি এবং সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেন। কয়েকদিনের যুদ্ধের মধ্যে সাহস করেও যারা ভিটেমাটিতে ছিলেন গতকাল তারাও বাড়ি ছেড়ে যান। গতকাল এবং আজকে সকাল হতে ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা অনেকটা স্বাভাবিক আসে। গোলাগুলির তেমন কোনও শব্দ শোনা যায়নি। এর ফলে অনেকে নিজ বাড়িতে ফিরছেন বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন।

বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, বুধবার সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে দুপুরের পর হতে আশ্রয়কেন্দ্রে আসা ২৮ পরিবারের অনেকে নিজেদের গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা থাকবে বলে জানান তিনি।

ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মাহাফুজ ইমতিয়াজ ভুঁইয়া জানান, আজ সারাদিন সীমান্তের পরিবেশ শান্ত ছিল। তেমন গোলাগুলির আওয়াজ শোনা যায়নি। আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ গ্রামে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, নারী ও শিশুরা আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। পুরুষ সদস্যরা হয়তো ঘর-বাড়ি পাহারা দিতে গেছে।

এদিকে সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে আজ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। পরিদর্শন শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে সামরিক জান্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তুমুল লড়াই চলছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যা। তবে ওই সংঘর্ষের মধ্যে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে বাংলাদেশিরাও আহত হয়েছেন।

বিজিবির মহাপরিচালক জানান, গত সোমবার ঘুমধুম সীমান্তের জলপাইতলীতে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, মিয়ানমারের ২৬৪ বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ও সেনাসদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা ধৈর্য ধারণ করে মানবিক দিক থেকে আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছি।

এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ২৬৪ জনকে মিয়ানমার ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত বলেও জানান বিজিবি মহাপরিচালক।

  • পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।