পালিয়ে আসা ৩৩০ জনকে নিতে বাংলাদেশের জলসীমায় মায়ানমারের জাহাজ
![]()
নিউজ ডেস্ক
মায়ানমারের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে আসা ৩৩০ জনকে সমুদ্রপথে নিজ দেশে ফেরত নিতে বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থান করছে মায়ানমারের সামরিক জাহাজ।
৩৩০ জনের মধ্যে রয়েছে মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। তারা গত কয়েকদিনে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের নিরস্ত্র করে হেফজতে নিয়েছিল।
আশ্রয়গ্রহণকারীদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ। তদ্মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৪ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ৪জন এবং উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ১১জন ভর্তি আছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
গুরুতর আহতদের আদৌ ফেরত নেওয়া হবে কিনা সেটা এই পর্যন্ত নিশ্চিত করেনি কোন বাংলাদেশী সংস্থা।
এদিকে, টেকনাফ উপজেলায নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী জানিয়েছেন, ফেরত প্রক্রিয়া ঠিক কখন শুরু হবে এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নয়।
তবে, মায়ানমারের জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থান করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটির সাথে যুক্ত রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ড।
- কক্সবাজারের অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
কোস্ট গার্ডের টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার লুৎফুল লাহিল মাজিদ জানান, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সমুদ্রপথে মায়ানমার জাহাজটিকে স্বাগত জানিয়েছে। মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা দেশটির বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের ফিরিয়ে নিতে এই জাহাজটি পাঠিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিনের যেকোন আশ্রয়গ্রহণকারীদের ফেরত প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তত্ত্বাবধানে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা দেশটির বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩৩০ নাগরিককে টেকনাফের দুটি স্কুলে রাখা হয়েছে।
মায়ানমারের জাহাজটি বড় হওয়ার কারণে একদম উপকূলের কাছে আসতে পারবে না। তাই ছোট ছোট নৌকা বা ট্রলারে করে তাদের বড় জাহাজে তুলে দেওয়া হবে।
শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান শনিবার জানান, মায়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন দেশটির ৩৩০ জন সীমান্তরক্ষী। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনার পর তাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মায়ানমার। ইতোমধ্যে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইনানীর নৌবাহিনীর জেটিঘাট থেকে মায়ানমারের জাহাজে করে আজ দিনের যেকোন সময় পালিয়ে আশ্রয়গ্রহণকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।