বিজিপির ঘাঁটিতেই আড়ালে বিদ্রোহীরা - Southeast Asia Journal

বিজিপির ঘাঁটিতেই আড়ালে বিদ্রোহীরা

বিজিপির ঘাঁটিতেই আড়ালে বিদ্রোহীরা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিজিপির ঘাঁটিগুলো দখলে নিয়েছিল বিদ্রোহী আরকান আর্মি। তবে আবারও জান্তা বাহিনী অভিযান চালাতে পারে শঙ্কায় অনেকটাই আড়ালে চলে গেছেন তারা। অবশ্য বিষয়টিকে বিদ্রোহীদের কৌশল হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে, নতুন করে হেলিকপ্টার চক্কর দেয়া আর মাঝে মধ্যে গুলি ছোড়ার ঘটনায় সীমান্তের স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ভর করেছে।

এদিকে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনেকটাই ঝুলে গেছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গারা আশ্রয়শিবিরের ক্যাম্পের কাঁটাতার কেটে পালানো শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের এই পলায়ন প্রক্রিয়ারোধে ক্যাম্প এলাকার চেকপোস্টগুলাতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এক ঘণ্টাতেই আটক হয়েছে ৪০ রোহিঙ্গা।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, তুমব্রু রাইট ক্যাম্প বিজিপি থেকে দখলে নেয়ার পর শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে আরকান আর্মি। তারপর থেকে ৫০ জনের বেশি সদস্য ক্যাম্পে পাহারায় থাকে। কিন্তু বর্তমানে আরকান আর্মির সদস্যরা গোপনে অবস্থানে চলে গেছে। নেই আগের মতো দলবল নিয়ে পাহারার দৃশ্য।

আরেক বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, বিজিপি ঘাঁটিগুলো দখলে নেয়ার পর তারা শক্ত অবস্থানে ছিল। কিন্তু এখন দেখছি তারা সাবধানতা অবলম্বন করছে। আগে যেভাবে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিতো সে দৃশ্য আর চোখে পড়ছে না। তারা গোপন আস্তানায় চলে গেছে।

তুমব্রু ক্যাম্প পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ বলেন, আরকান আর্মি তাদের স্থান পরিবর্তন করছে।

এদিকে ক্যাম্পের পাশে শূন্যরেখায় ক্ষেত খামারে ব্যস্ত চাষিরা জানান, আরকান আর্মি এখন গোপন আস্তানায় অবস্থান করছে। নতুন করে হেলিকপ্টার চক্কর দেয়া আর মাঝে মধ্যে গুলি ছোড়ায় নতুন করে আতঙ্ক ভর করেছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে।

সীমান্তবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ভর করছে জানিয়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, সীমান্তের বাসিন্দাদের আতঙ্ক যাচ্ছে না। আগে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী যখন ছিল, তখনতো জবাবদিহিতা ছিল। কিন্তু আরকান আর্মিদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। তাই এসব বিষয় নিয়ে আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।

এদিকে, মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চিতভেবে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের কাঁটাতার কেটে পালাচ্ছে, ছড়িয়ে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তে। এমন সংবাদে বাড়তি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে।

এরই মধ্যে সকালে এক ঘণ্টাতেই উখিয়া ডিগ্রি কলেজ এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে কুতুপালংস্থ ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে হস্তান্তর করা হবে। যদিও এপিবিএনের দাবি, মূলত কাজের সন্ধানে তারা নানা উপায়ে ক্যাম্প ছাড়ছে।

উখিয়াস্থ ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক মো. আমির জাফর বলেন, ক্যাম্প ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সময় যানবাহন তল্লাশি চালিয়ে চলতি মাসে ৫১১ জন রোহিঙ্গাকে ধরে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা মূলত প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে ক্যাম্প ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

টানা কয়েক সপ্তাহ কেটে গেলেও সীমান্তে উত্তেজনা থামেনি। বান্দরবানের ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তের মতো এখন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বিপরীতে মিয়ানমারের মংডুতে থেমে থেমে গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণ হচ্ছে।

  • আন্তর্জাতিক অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন