মিয়ানমার জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে করছে রাশিয়া - Southeast Asia Journal

মিয়ানমার জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে করছে রাশিয়া

মিয়ানমার জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে করছে রাশিয়া
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের তিন বছর পর এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে জান্তা সরকার। এমন পরিস্থিতিতে সেনাশাসিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে রাশিয়া। চলতি সপ্তাহে রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি রুডেনকোর নেপিদো সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক গভীর করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

প্রতিবেদন মতে, গত মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিপেদো সফর করেন রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি রুডেনকো। সফরকালে মিয়ানমারের জান্তা নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের সাথে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে পরমাণু প্রযুক্তি, পর্যটন, শিক্ষা, সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি রুডেনকো জান্তা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইন উ-এর সাথেও বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, আইনি বিষয়, পরিবহন, যোগাযোগ, উৎপাদন, বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, মিডিয়া, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন ও দুই দেশের জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততার মতো নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া উভয় পক্ষ একে অপরকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মিয়ানমারে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নোবেলজয়ী অং সান সুচির সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী।

কিন্তু মিয়ানমারের সাধারণ জনতা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল মেনে নেয়নি। তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসে। কিন্তু কঠোর হাতে তাদের দমন শুরু করে সেনাবাহিনী। গণতন্ত্রকামী হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। যাদের অনেকেরই পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে মৃত্যু হয়।

অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং যে সরকার গঠন করেন তা বৈধতার সংকটে পড়ে। মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী জনতার সাথে সংহতি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলো জান্তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।

এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই বন্ধুর খোঁজে বের হয় জান্তা কর্তৃপক্ষ। আর মিয়ানমার জনগণের আকাঙ্খার বিরুদ্ধে গিয়ে জান্তা সরকারকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় রাশিয়া।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতন্ত্রবিরোধী পররাষ্ট্রনীতি দিয়ে অনুপ্রাণিত হয়েই মস্কো ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মিশর ও সিরিয়া থেকে শুরু করে ২০২২ সালে কাজাখস্তান পর্যন্ত অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী একনায়ক ও স্বৈরাচারীদের সমর্থন দিয়েছে। পলিটিকো।

মিয়ানমারের ক্ষেত্রেও সেই একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে। যে নীতির অংশ হিসেবে নেপিদোর সাথে নিবীড় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা গড়ে তুলেছে মস্কো। গণতন্ত্রপন্থীরা যখন জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে, ঠিক তখন মিন অং হ্লাইংয়ের তাতমাদোকে অস্ত্র, গোয়েন্দা, যৌথ সেনা ও নৌ মহড়া এবং কূটনৈতিক সহযোগিতা দিয়ে পুষ্ট করছে রুশ প্রশাসন।

দ্য ইরাবতীর প্রতিবেদন মতে, অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং ও প্রেসিডে ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারের মধ্যে সম্পর্ক বেশ গভীর হয়েছে। ক্ষমতা দখলের পরপরই হ্লাইং পুতিনের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং এরপর দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিয়মিত বিনিময় সফর করেছেন।

গত তিন বছরের জান্তা বাহিনীর অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠেছে রাশিয়া। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ও বহু-ক্ষেত্রে সহযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে।

সম্প্রতি মিয়ানমারের তিনটি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স জান্তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তাদের সমন্বিত আক্রমণের মুখে পিছু হটছে বিলিয়ন ডলারের জান্তা বাহিনী।

গত বছরের অক্টোবর থেকে অন্তত ৪০টি শহরের পাশাপাশি অসংখ্য সেনাঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তারা। অনেক অঞ্চলে এখন তুমুল লড়াই চলছে এবং প্রতিদিনই জান্তা সেনার পরাজয়ের খবর আসছে। এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় জান্তা সরকারের পতন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেও মিয়ানমার জান্তার সাথে দহরম মহরম আরও দৃঢ় করছে রুশ কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ডিসেম্বরে মিন অং হ্লাইং রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী, উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ও মিয়ানমারে রুশ রাষ্ট্রদূতসহ পাঁচ রুশ কর্মকর্তাকে সম্মানসূচক খেতাব প্রদান করেন। এমনকি জান্তাকে সাহস যোগাতে অন্তত তিনটি রুশ যুদ্ধজাহাজ ইয়াঙ্গুন পরিদর্শন করেছে।

আরও ঘাঁটি ও সেনা হারালো জান্তা

এদিকে জান্তা বাহিনী গত কয়েকদিনে আরও ঘাঁটি ও সেনা হারিয়েছে। ঘাঁটিগুলোর অবস্থান কাচিন, রাখাইন ও মোন রাজ্য এবং সাগাইং ও বাগো অঞ্চলে। পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ) এবং জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন (ইএও) আক্রমণ চালিয়ে একের পর ঘাঁটি দখল করছে। খবর দ্য ইরাবতীর।

রাখাইনে হাসপাতালেও বোমা হামলা জান্তা বাহিনীর

এদিকে জান্তা বাহিনী রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে। এতে শহরটির একটি সরকারি হাসপাতাল ও একটি বাজার ধ্বংস হয়ে গেছে। বোমার আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অনেক বেসামরিক ঘরবাড়িও। বলে বলে জানিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।

দ্য ইরাবতীর প্রতিবেদন মতে, আরাকান আর্মি জানিয়েছে, মঙ্গলবার রামরি শহরে হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। যুদ্ধবিমান থেকে শহরটিতে ৫০০ পাউন্ডের একটি বোমাসহ বেশ কয়েকটি বোমা ফেলা হয়। সম্প্রতি জান্তার ব্যবহৃত ‘সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক’ বোমা ছিল সেগুলো। এ হামলার মধ্য দিয়ে তারা শহরটি পুরোপুরি ধ্বংস করতে চাচ্ছে।

  • আন্তর্জাতিক অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন