পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ বাতিলের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের

পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ বাতিলের দাবি পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের

পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ বাতিলের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি বাতিল ও পার্বত্য চট্টগ্রামে কেএনএফ এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নির্মূলে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রাখার দাবীতে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

বুধবার (১৫ মে) সকালে স্থানীয় একটি রেস্তোরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ দাবী করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মজিবুর রহমান।

এসময় তিনি, ২০১৮ সালে আদালতে মৃত আইন হিসেবে ঘোষিত ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি বাতিলে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবী জানান ও সন্ত্রাসী সংগঠন কেএনএফ এর সাথে কোন ধরণের সংলাপ চলবে না বলে হুঁশিয়ারি ন। একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রত্যাহারকৃত সেনাবাহিনীর সকল ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি জানান তিনি।

এ সময় সংগঠনের মহাসচিব আলমগীর কবির, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এসএম মাসুম রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তাদির হোসেন ও খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

মূলত, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০’ জারি করেছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে ১৯০০ সালের ১ মে থেকে এই শাসনবিধি কার্যকর হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্যাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় প্রচলিত আইন অকার্যকর। দেশের সাংবিধানিক বিধিবিধান তোয়াক্কা না করে চলছে এই তথাকথিত শাসনবিধি বা মৃত আইন। এই কারণেই একই দেশে দুইটি আইন বিদ্যমান।

ব্রিটিশ কর্তৃক প্রণীত পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি বা পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন (চিটাগং হিল ট্র্যাক্ট ম্যানুয়েল ১৯০০) কে আইন হিসেবে ২০১৪ ও ২০১৬ সালে পৃথক দুই মামলার রায় দেয় সুপ্রীম কোর্টের পুর্ণ বেঞ্চ। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে রাঙামাটি ফুডস প্রোডাক্ট লি. এর এক মামলায় হাইকোর্ট বেঞ্চ পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিকে ডেড ল বা অকার্যকর আইন বলে রায় দেয়। এ রায়ের ফলে ১৯৯৭ সালের ২-রা ডিসেম্বরের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অংশ পার্বত্য জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পরিষদসহ এবং শাসনবিধির সৃষ্ট প্রথাগত প্রতিষ্ঠানসমূহ সংকটের মুখে পড়েছিল।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ বাতিলের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের

এ রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হলে সুপ্রীমকোর্ট ২০১৬ সালে ২২ নভেম্বর শাসনবিধিকে একটি কার্যকর ও বৈধ আইন বলে রায় দেয়। অন্যদিকে সুপ্রীম কোর্ট বিচারধীন ওয়াগ্গাছড়া টি স্টেট অপর এক মামলার ২০১৪ সালে ২ ডিসেম্বর রায় দেয়। দুটি রায়ই শাসনবিধিকে কার্যকর বলে রায় দেয়।

এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে সুপ্রীম কোর্টে বাঙ্গালীদের পক্ষে রিভিউ করেন খাগড়াছড়ি জেলার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ আখন্দ ও আব্দুল মালেক। একাধিক আপিল শুনানির পর পরবর্তীতে রায়টি উচ্চ আদালত বাতিল করে মৃত আইন হিসেবে রায় দেয়। মৃত আইন হিসেবে রায়টি পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় শক্তিকে মজবুত করে। শাসনবিধিকে আইন হিসেবে বলবৎ করার জন্য আঞ্চলিক দলগুলো সম্প্রতি বিশেষ তৎপর হয়ে উঠেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় উপজাতি হেডম্যান-কার্বারীদের দিয়ে জনসমাগম করার মাধ্যমে রায়টি বলবৎ রাখার প্রচেষ্ঠা করছে আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলো।

জানা যায়, গত ৯ মে ২০২৪, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের পূর্ন বেঞ্চে এই আইনকে মৃত আইন মর্মে ঘোষণা সংক্রান্ত রিভিউ শুনানি শুরু হয়েছে। পূর্ন বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি সহ মোট আট জন বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। আগামীকাল ১৬ মে ২০২৪ বৃহস্পতিবার মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে। এই রায়টি চূড়ান্তভাবে বাতিল হলে পাহাড়ের জোরজুলুম ও বৈষম্যে, হেডম্যান-কার্বারী ও সার্কেল চীপ প্রথার অবসান হবে। সাথে প্রথাগত অধিকারের দোহাই দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমগ্র ভূমির মালিকানা দাবিও অবসান হবে। তাই এই রায়টি বলবৎ রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আঞ্চলিকদলগুলো।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশন ১৯০০ বাতিল, রাজা-হেডম্যান-কার্বারি পদবি বিলোপ এবং পাহাড়িদের প্রথাগত অধিকার হরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে ও প্রতিবাদে আজ ১৫ মে (বুধবার) খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচির পালন করেছে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট- ইউপিডিএফ।

উল্লেখ যে, পার্বত্য শাসনবিধি (১৯০০) এমন একটি মৃত আইন, যেটি এ অঞ্চলের সরকার ও বাঙ্গালীদের ভূমি অধিকার খর্ব করে এবং এ অঞ্চলের নিরাপত্তাবাহিনীর কার্যক্রমের উপর প্রভাব ফেলে। তথাকথিত শাসনবিধির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবধরনের ভূমির মালিক উপজাতিরা। এই মৃত আইনের ক্ষমতাবলে হেডম্যান-কার্বারী ও সার্কেল চীফের সৃষ্টি। প্রথাগত ভূমি অধিকার উপজাতীয়দের এ অঞ্চলের সব ভূমির উপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। এই শাসনবিধিকে আইন হিসেবে রায় বলবৎ করলে অচিরেই পার্বত্য চট্টগ্রামের সবধরনের ভূমির নিয়ন্ত্রণ হারাবে রাষ্ট্র।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *