৭ বছরেও শেষ হয়নি লক্ষ্মীছড়ির হাসপাতাল ভবন, বৃষ্টি এলেই ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি

৭ বছরেও শেষ হয়নি লক্ষ্মীছড়ির হাসপাতাল ভবন, বৃষ্টি এলেই ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি

৭ বছরেও শেষ হয়নি লক্ষ্মীছড়ির হাসপাতাল ভবন, বৃষ্টি এলেই ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি। বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে ডুবে যায় পুরো হাসপাতাল, তখন অস্ত্রোপচার কক্ষেও ভরসা মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট। খাগড়াছড়ির দুর্গম লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষের চিকিৎসার একমাত্র জায়গা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অথচ চার দশক ধরে বেহাল দশা কাটছেই না। ২০১৯ সালে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হলেও সাত বছরেও তা শেষ হয়নি।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার আশপাশে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোনো হাসপাতাল না থাকায় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই দুর্গম এলাকার মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা। কিন্তু পুরোনো ভবনের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়া, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জনবল সংকটে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম।

অন্ধকারে অস্ত্রোপচার, মোবাইলের আলোই ভরসা

হাসপাতালের এক সিনিয়র স্টাফ নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জনবল সংকটের কারণে একসঙ্গে দুই-তিনজন প্রসূতি রোগী এলে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো কখনো অস্ত্রোপচার বা প্রসবকালীন সময়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে কাজ চালাতে হয় বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড ছাড়া হাসপাতালে অন্য কোনো বিশেষায়িত ওয়ার্ড না থাকায় সব ধরনের রোগীকে একসঙ্গে রাখতে হয়। দুর্গম এলাকা হওয়ায় চিকিৎসক-নার্সরাও এখানে থাকতে আগ্রহী হন না বলে জানান তিনি।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ক্যাজ্বরি মগ বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে এসেও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হয়; সারাদিনে একজন মাত্র নার্সের দেখা মেলে। বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি পড়া আর ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। আরেক রোগী সুর্পনা চাকমা বলেন, জরুরি মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে গেলে ভয় লাগে, কিন্তু দুর্গম এলাকা হওয়ায় বিকল্প কোনো হাসপাতালে যাওয়ারও সুযোগ নেই।

ঠিকাদার পলাতক, থমকে আছে কাজ

খাগড়াছড়ির ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা জানান, ২০১৯ সালে আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ঠিকাদার পলাতক রয়েছেন। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হলে এলাকার স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাইদুল ইসলাম সোহেল বলেন, সীমিত অবকাঠামো ও নানা সংকটের মধ্যেই বর্তমানে সেবা দিতে হচ্ছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ হলে রোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে।

দ্রুত উদ্যোগ চান স্থানীয়রা

লক্ষ্মীছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মোবারক হোসেন বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনটি বছরের পর বছর অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকা দুঃখজনক। দ্রুত কাজ শেষ করে ভবনটি চালু করার দাবি জানান তিনি।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফোরকান হাওলাদারও একই দাবি জানিয়ে বলেন, দুর্গম এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভবনের অপেক্ষায় থাকলেও কাজ শেষ না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *