দুর্গম রুমায় ১১২ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস ও ছাতা বিতরণ করল সেনাবাহিনী
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রয়াসের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারও মানবিক সহায়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১২ জন শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস ও ছাতা বিতরণ করেছে সেনাবাহিনীর রুমা জোন।
গত শনিবার (৪ জুলাই) রুমা জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার-এর দিকনির্দেশনায় এবং মো. নেওয়াজ মোর্শেদের তত্ত্বাবধানে রাইংখিয়ং পুকুর আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সহায়তা পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো পুকুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রংজং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরহা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চার্জিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, চারটি বিদ্যালয়ের মোট ১১২ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে স্কুল ড্রেস এবং একটি করে ছাতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুকুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০ জন, প্রংজং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন, সুরহা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন এবং চার্জিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৮ জন শিক্ষার্থী এ সহায়তা পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় কারবারি, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
স্থানীয়রা বলেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে এ ধরনের সহায়তা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের জন্য স্কুল ড্রেস ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে এবং পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।
সহায়তা পেয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও আনন্দ প্রকাশ করেন। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। এসব উদ্যোগ শুধু জনকল্যাণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রুমা জোন কর্তৃপক্ষ জানায়, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।