খাগড়াছড়িতে ২১ হাজার চারা বিতরণ, নিয়মিত পরিচর্যার অনেুরোধ শেফালিকা ত্রিপুরার

খাগড়াছড়িতে ২১ হাজার চারা বিতরণ, নিয়মিত পরিচর্যার অনেুরোধ শেফালিকা ত্রিপুরার

খাগড়াছড়িতে ২১ হাজার চারা বিতরণ, নিয়মিত পরিচর্যার অনেুরোধ শেফালিকা ত্রিপুরার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, বরং প্রতিটি গাছকে নিজের সম্পদ মনে করে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

রবিবার (৫ জুলাই) খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে করলিয়া প্রকল্পের উদ্যোগে, ইআরআরডি-সিএইচটি এবং ইউএনডিপির সহযোগিতায় আয়োজিত ৩০টি সাইটের কৃষকদের মাঝে ২১ হাজার ফলজ, বনজ, ঔষধি ও ফুলজাতীয় গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা এবং করলিয়া প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার পরিচিতা খীসা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশও এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে কৃষি, পরিবেশ এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, একসময় আষাঢ় মাস মানেই ছিল টানা বর্ষণ। গ্রামবাংলায় প্রচলিত ছিল—‘আষাঢ়ের বৃষ্টিতে মায়ের ঘরে ছেলে যেতে পারে না, ছেলের ঘরে মা যেতে পারে না।’ কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেই স্বাভাবিক ঋতুচক্র আজ আর নেই। প্রয়োজনের সময়ে বৃষ্টি হচ্ছে না, আবার অপ্রয়োজনীয় সময়ে অতিবৃষ্টি দেখা দিচ্ছে। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ কিংবা চৈত্র মাসেও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ খরার কারণে কৃষকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ধান রোপণসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পানির সংকটের কারণে কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।

করলিয়া প্রকল্পের প্রশংসা করে শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, ইউএনডিপির সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রকল্প অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগণকে জলবায়ু সহনশীল কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সফল করতে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি গাছের পরিচর্যার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “শুধু গাছ লাগিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। প্রতিটি গাছকে নিজের সম্পদ মনে করে যত্ন নিতে হবে। একটি ফলজ গাছ বড় হলে পরিবার তার সুফল ভোগ করবে, ফুলের গাছ পরিবেশকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করবে এবং বনজ গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে।”

অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে করলিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০টি সাইটের কৃষকদের মাঝে মোট ২১ হাজার ফলজ, বনজ, ঔষধি ও ফুলজাতীয় গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে।

আয়োজকদের মতে, কানাডা সরকারের অংশীদারিত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রসঙ্গত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চারা রোপণের পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ, কৃষি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *