কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, বিক্ষোভে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, বিক্ষোভে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, বিক্ষোভে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় ১২ বছর বয়সি এক কিশোরীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রোববার (৫ জুলাই) সড়কে বিক্ষোভে নামেন হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর এবং লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে এক বন্ধুর জন্মদিনে উপহার দিতে বাড়ি থেকে বের হয় হত্যা ও ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের পক্ষ থেকে বারুইপুর থানায় অভিযোগ করা হয়। পরিবারের দাবি, শুরুতে পুলিশ যথাযথ তৎপরতা দেখায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন যুবক ওই কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা পরে তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করে। পরে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ পলিথিনে মুড়ে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

পরদিন রোববার (৫ জুলাই) ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুর থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা কয়েকজন সন্দেহভাজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এরপরই নতুন করে সৃষ্টি হয় বিতর্কের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক স্থানীয় বিজেপি নেতা থানায় গিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকেই বারুইপুর-জয়নগর সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। নিহত কিশোরীর মরদেহ নিয়েই সড়কে অবস্থান নেন তারা। বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়। সূর্যপুর রেলস্টেশন এলাকাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।‌ বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে কয়েকজন আহত হন।

একই সময়ে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তিনি ঘটনায় জড়িতদের একজন ছিলেন। তবে পুলিশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এ ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি নিহত কিশোরীর বাবার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান।

এরপর বিকেলের দিকে ধীরে ধীরে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত একজন প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং পুরো ঘটনার সব দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *