টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানে পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং
![]()
নিউজ ডেস্ক
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো বান্দরবানেও কয়েকদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে প্রবল বৃষ্টিপাত। অতিবৃষ্টির কারণে জেলা সদরের কালাঘাটা, বালাঘাটা, বনরূপাপাড়া, সিদ্দিক নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে পাহাড়ের মাটি ধসে সড়কের ওপর পড়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারীরা।
প্রশাসনের মাইকিংয়ে জানানো হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সোমবার দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ অবস্থায় ভূমিধসের ঝুঁকি বিবেচনায় পাহাড়ের পাদদেশ, ঢাল ও চূড়ায় বসবাসকারী সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, গত দুই দিন ধরে জেলায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জেলার সাত উপজেলায় মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকটি সড়কে পাহাড় থেকে মাটি ও পাথর ধসে পড়েছে। এসব স্থানে ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দ্রুত মাটি অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ চলছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।