রামগড়ে ৪৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৮টিতে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮টিতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র সহকারী শিক্ষকরা। নিজেদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও সামলাতে হওয়ায় তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তারা উল্লেখযোগ্য কোনো অতিরিক্ত সুবিধা পান না। অফিসের প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সহকারী শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করাও সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ভাষায়, একটি বিদ্যালয়ের প্রকৃত অভিভাবক প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন এ পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, রামগড় উপজেলা শিক্ষা অফিসের অধীনে ৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৯টিতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ১১টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন এবং ১৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কোনো পদায়নই নেই। সব মিলিয়ে ২৮টি বিদ্যালয় নিয়মিত প্রধান শিক্ষকবিহীন অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের ৬৫টি পদও শূন্য রয়েছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
রামগড় উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকা অত্যন্ত জরুরি। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা না হলে শুধু শিক্ষার মানই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বেতন কাঠামোর উন্নয়নেও সরকারের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হ্যাপি চাকমা বলেন, “প্রতি বছর অবসরজনিত কারণে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হচ্ছে। পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এ সংকট আরও বেড়েছে। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রমে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ না হলে রামগড় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।