প্রবল বর্ষণে ঢাকা–খাগড়াছড়ি মহাসড়কে ভাঙন, ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির রামগড়ে ঢাকা–খাগড়াছড়ি মহাসড়কের একটি অংশে মাটি ধসে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মহাসড়কটি দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। খবর পেয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি চিহ্নিত করে বালুর বস্তা ফেলে সাময়িকভাবে মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের পাগলাপাড়া এলাকায় এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের কারণে মহাসড়কের একপাশের মাটি ধসে যায়। এতে সড়কের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সতর্কতার সঙ্গে ওই অংশ অতিক্রম করছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সড়কের নিচের মাটি আরও সরে গিয়ে মহাসড়কের বড় অংশ ধসে পড়তে পারে। এতে ঢাকা ও খাগড়াছড়ির মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে একই মহাসড়কের রামগড় বাজার থেকে রামগড় স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষাকালে এসব গর্ত পানিতে তলিয়ে থাকায় চালকদের জন্য সড়কের অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক ওয়ালি উল্লাহ বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তগুলো পানিতে ডুবে যায়। ফলে যানবাহনের চাকা গর্তে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। অতীতেও এ সড়কে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তারপরও জরুরি সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, মহাসড়কে মাটি ধসের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৌশল বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আপাতত ঝুঁকিপূর্ণ অংশে বালুর বস্তা ফেলে সাময়িকভাবে মেরামত করা হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে এলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে স্থায়ীভাবে গাইডওয়াল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রামগড় বাজার থেকে স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, মহাসড়কের ওই অংশটি বর্তমানে স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।