হরমুজে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিক নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ

হরমুজে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিক নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ

হরমুজে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিক নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে চলমান সামরিক সংঘাত মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে ভারতীয় নাবিক নিয়োগ না দেওয়ার জরুরি নির্দেশ দিয়েছে নয়া দিল্লি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্থানীয় জাহাজ মালিক ও রিক্রুটিং সংস্থাগুলোকে এই নির্দেশ দেয় ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিজিএমএ)।

বিশ্বব্যাপী মার্চেন্ট শিপিং বা বাণিজ্যিক জাহাজে নাবিক সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারত অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। দেশটির নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি সক্রিয় ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন করে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই সপ্তাহে ইরানের ওপর মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক হামলা ও এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামোর ওপর ইরানি বাহিনীর পাল্টা আঘাতের কারণে এই নৌপথটি এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

ডিজিএমএ’র জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী কোনো জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের মোতায়েন বা নিয়োগ না করার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হলো। বিবৃতিতে সংস্থাটি স্পষ্ট উল্লেখ করেছে যে, তারা এই অঞ্চলের ক্রমাগত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভারতীয় নাবিকদের জীবন রক্ষা, নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্বের জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হলেও এটি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরোধের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এ পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজে চালানো হামলায় অন্তত দুজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন বলে সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

ওই ঘটনার পর সোমবার (১৩ জুলাই) ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ‘সিফেয়ারার-ফার্স্ট’ (Seafarer-First) নামে একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে চলাচলকারী যে কোনো পতাকাবাহী জাহাজে থাকা ‘প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের’ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এদিকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে চালানো ক্রমাগত হামলাগুলোকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *