কুয়েতের ‘আল-সালেম’ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান

কুয়েতের ‘আল-সালেম’ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান

কুয়েতের ‘আল-সালেম’ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি ও সি-র‍্যাম (C-RAM) আগাম সতর্কীকরণ রাডার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে ‘অপারেশন নাসের-২’ এর অংশ হিসেবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের(আইআরজিসি) নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ।

আইআরজিসি-এর জনসংযোগ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, আল সালেম ঘাঁটির সি-র‍্যাম (C-RAM) আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।

আইআরজিসি কুয়েতের জনগণের প্রতিও আবারও আহ্বান জানিয়ে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে মুসলিম ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপরাধ’ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই কুয়েতিদের প্রতি ‘আগ্রাসীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার’ এবং ইসলামি দায়িত্ব ও ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানায় আইআরজিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগের রাতে ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও বিভিন্ন শহরে বিমান হামলার পর সর্বশেষ এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন যুদ্ধবিমানও বারবার ইরানের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হেনেছে।

ইরান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই ধারাবাহিক সংঘাতে দক্ষিণ ইরানে অন্তত ৩০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া আহভাজ শহরে একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতালের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত পড়ায় হাসপাতালটি খালি করে রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন একটি সমঝোতায় পৌঁছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *