‘জ্বালানির বিনিময়ে প্রতিরক্ষা’ কুয়েতের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তান
![]()
জার্নাল ডেস্ক
তীব্র অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট কাটাতে কুয়েতের সঙ্গে একটি বর্ধিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করছে পাকিস্তান। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘প্রতিরক্ষার বিনিময়ে জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ’।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সাল থেকে প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে কুয়েতের একটি সীমিত পরিসরের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় মূলত সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা মূলত সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের যে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, তার অনুরূপ একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানি এক সরকারি কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, কুয়েত তাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানের কাছে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এবং এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত স্থাপনাসহ সামরিক সহায়তা চাইছে।
বিনিময়ে পাকিস্তান কুয়েতের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় তেল ও জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি করা এবং পাকিস্তানে একটি ‘বন্ডেড ফুয়েল স্টোরেজ’ (জ্বালানি গুদামজাতকরণ সুবিধা) স্থাপন করা।
তবে আলোচনাটি এখনো অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি।
পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, কুয়েতের চাওয়া অনেক বড় হলেও এই মুহূর্তে কোনো কমব্যাট ট্রুপস বা যুদ্ধ সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে না ইসলামাবাদ।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ‘কুয়েত পাকিস্তানের সাথে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছে, তবে এটি সরাসরি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে পরিণত হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।’
এরআগে গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সোমবার ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলন সৌদি আরবের ওপর হামলা চালানোর পর পাকিস্তান ইরানকে বার্তা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে পাকিস্তান নিজেদের ওপর হামলা হিসেবেই গণ্য করবে।
এই পরিস্থিতিতে কুয়েতের সাথে এমন চুক্তি পাকিস্তানের নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা প্রশমিত হলে কুয়েত ও পাকিস্তানের আলোচনা গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।