রেকর্ডভুক্ত জমি উদ্ধারে ডিসির দ্বারস্থ গুচ্ছগ্রামবাসী, ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে দখল ও বাধা দেয়ার অভিযোগ

রেকর্ডভুক্ত জমি উদ্ধারে ডিসির দ্বারস্থ গুচ্ছগ্রামবাসী, ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে দখল ও বাধা দেয়ার অভিযোগ

রেকর্ডভুক্ত জমি উদ্ধারে ডিসির দ্বারস্থ গুচ্ছগ্রামবাসী, ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে দখল ও বাধা দেয়ার অভিযোগ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার লালছড়ি, বাটনা শিবির, তৈসাগাড়া ও থানাচন্দ্রপাড়া এলাকায় সরকারিভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া রেকর্ডভুক্ত জমি উদ্ধার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পুনর্বাসনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা। অভিযোগে তারা প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট -ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমিতে প্রবেশে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা এবং দখলের অভিযোগ তুলেছেন।

গত পরশু ২০ জুলাই খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া ওই অভিযোগে গুচ্ছগ্রামবাসীদের পক্ষে মো. ইউনুছ স্বাক্ষর করেন। সাউথইস্ট এশিয়া জার্নালের হাতে আসা অভিযোগপত্রটিতে দেখা যায়, একই অভিযোগের অনুলিপি রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন, বিজিবির রামগড় ব্যাটালিয়ন এবং রামগড় থানায় পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮০-৮১ সালে তৎকালীন সরকার রামগড় উপজেলার বাটনা শিবির, তৈসাগাড়া, থানাচন্দ্রপাড়া ও লালছড়ি এলাকায় পরিবারপ্রতি পাঁচ একর করে টিলা জমি বন্দোবস্ত দেয়। ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ, বাগান সৃষ্টি এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে তারা বসবাস করে আসছিলেন।

তবে ১৯৮৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে তৎকালীন শান্তিবাহিনীর হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরকার নিরাপত্তার স্বার্থে ওইসব এলাকা থেকে বাঙালি পরিবারগুলোকে সরিয়ে তৈচালাপাড়া গুচ্ছগ্রামে স্থানান্তর করে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় সরকার তাদের আশ্বাস দিয়েছিল, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার নিজ নিজ বসতভিটায় পুনর্বাসন করা হবে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রায় তিন দশক অতিবাহিত হলেও এখনো তাদের নিজস্ব জমিতে পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে গুচ্ছগ্রামে সীমিত জায়গায় বসবাস করতে গিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। সময়ের সঙ্গে পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়লেও পুনর্বাসন না হওয়ায় অনেকেই আশপাশে জমি কিনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবাস শুরু করেছেন।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, শান্তি চুক্তির পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জমির মালিকরা দিনের বেলায় নিজ নিজ জমিতে গিয়ে বাগান পরিচর্যা ও কৃষিকাজ করতে পারলেও নিরাপত্তার কারণে সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসতেন। কিন্তু ২০১৮ সালের পর থেকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা তাদের ওইসব এলাকায় যাতায়াতে বাধা দিতে শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে হামলা, মারধর, অপহরণের ভয় দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকির মাধ্যমে জমির মালিকদের নিজস্ব ভূমিতে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীকালে ইউপিডিএফের সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড়ি পরিবার এনে তাদের রেকর্ডভুক্ত জমিতে বসতি স্থাপন করানো হয়। বর্তমানে বান্দরবান ও রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলা থেকেও নতুন পরিবার এনে পর্যায়ক্রমে জমি দখল করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, আজ বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রামগড়ের সোনাইআগায় পাহাড়িদের ওপর বাঙালিদের হামলা’ শিরোনামে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এর পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন অভিযোগকারী ভূমির মালিকরা। তাদের দাবি, ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক হামলা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা নিজেদের রেকর্ডভুক্ত জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করতে গেলে দখলদারদের বাধার মুখে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভূমির মালিকদের অভিযোগ, গত ১৯ জুলাই তারা রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ২০ জুলাই জেলা প্রশাসক ও রামগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২২ জুলাই তারা নিজেদের জমিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

তাদের ভাষ্য, নিয়মিত খাজনা পরিশোধ এবং বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের জমিতে যেতে পারছেন না। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

লিখিত অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত, রেকর্ড যাচাই, অবৈধ দখলমুক্তকরণ, ভূমির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রকৃত মালিকদের পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *