ভারতবিরোধী তৎপরতা দমনে জোরালো অভিযানের নির্দেশ মণিপুরের ডিজিপির
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের মণিপুর রাজ্যের পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিজিপি) মুকেশ সিং সীমান্তবর্তী তেংনুপাল জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন। এ সময় তিনি ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পাশাপাশি ‘ভারতবিরোধী’ তৎপরতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও তীব্র করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইন-শৃঙ্খলা)কে সঙ্গে নিয়ে তিনি তেংনুপাল জেলা পুলিশ কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পুলিশি কার্যক্রম এবং সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অপারেশনগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ডিজিপি মুকেশ সিং সন্ত্রাসী ও ভারতবিরোধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অপরাধমূলক মামলার দ্রুত তদন্ত, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের নির্দেশ দেন।
সীমান্ত শহর মোরে সফরকালে তিনি তামিল, কুকি, নেপালি ও মেইতেই পাঙ্গাল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সীমান্ত শহরের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় তিনি ৩৬ আসাম রাইফেলস ও ৩ আসাম রাইফেলসের কমান্ড্যান্ট, আসাম রাইফেলসের কর্মকর্তারা এবং মণিপুর পুলিশ কমান্ডো ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। ডিজিপি নিরাপত্তা রক্ষায় সব বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
সফরের অংশ হিসেবে তিনি মোরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের গেট-১ ও গেট-২ পরিদর্শন করেন। সেখানে সীমান্তে মোতায়েন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি কার্যক্রম এবং বাহিনীর প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
ফেরার পথে তিনি সীমান্তবর্তী কোয়াথা গ্রামও পরিদর্শন করেন। সেখানে স্থানীয় মেইতেই বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দায়িত্বে থাকা জেলা পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) ও আসাম রাইফেলস সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সীমান্ত অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।