আসিয়ানের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে জান্তার দ্বিমুখী অবস্থান

আসিয়ানের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে জান্তার দ্বিমুখী অবস্থান

আসিয়ানের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে জান্তার দ্বিমুখী অবস্থান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা আসিয়ানের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আবারও পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। একদিকে দেশটির সামরিক-নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচ দফা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা ও কার্যত প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে চলতি মাসের শুরুতে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আসিয়ানের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সোয়ে দাবি করেন, পাঁচ দফা ঐকমত্য এখনো বহাল রয়েছে। এ দুই অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট সাংঘর্ষিকতা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সরকার ৯ জুলাই ইউনিয়ন পার্লামেন্টে গৃহীত জরুরি প্রস্তাবকে সম্মান জানাবে। ওই প্রস্তাবে ইউনিয়ন সরকারকে আসিয়ানের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পার্লামেন্ট সদস্যদের মতে, এই পরিকল্পনা মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব ও আসিয়ানে সমমর্যাদার নীতিকে ক্ষুণ্ন করে। তাদের দাবি, এটি কোনো বাধ্যতামূলক চুক্তি নয়; বরং আসিয়ান চেয়ারম্যানের বিবৃতির একটি সংযোজন মাত্র।

কিন্তু এ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের রিট্রিট বৈঠকের পর ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বৈঠকের সভাপতি মারিয়া তেরেসা লাজারো সাংবাদিকদের জানান, ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বৈঠকে টিন মং সোয়ে সংসদের অবস্থান কার্যত অস্বীকার করেছিলেন।

লাজারো বলেন, “তিনি আমাদের বলেছেন, ফাইভ-পয়েন্ট কনসেনসাস এখনো বিদ্যমান। ফলে সংসদে গৃহীত প্রস্তাব কার্যত অকার্যকর হয়ে যায়। আমাদের দৃষ্টিতে পাঁচ দফা ঐকমত্য এখনো বহাল রয়েছে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে “মিয়ানমারের মালিকানাধীন ও মিয়ানমারের নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়া” অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে দেশটির জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা হবে এবং আসিয়ানকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতার নীতি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় গৃহীত আসিয়ানের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনায় সহিংসতা বন্ধ, সব পক্ষের অংশগ্রহণে সংলাপ, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং আসিয়ানের বিশেষ দূতের অবাধ প্রবেশাধিকারের কথা বলা হয়। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় আসিয়ান ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের জান্তা নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। কেবল অরাজনৈতিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার মারিয়া তেরেসা লাজারো বলেন, মিয়ানমারের শীর্ষ নেতাদের আসিয়ানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ফেরার সময় এখনো অনেক দূরে। কারণ পাঁচ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে। তিনি জানান, আসিয়ান অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরি করবে। সেই মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অ-সম্মতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

আসিয়ানের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্বেও থাকা লাজারো জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে তিনি একটি মানবিক সহায়তা মিশনের নেতৃত্ব দেবেন। তবে বন্দি নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে বৈঠকে স্থায়ী বিশেষ দূত নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতির পরিবর্তে আসিয়ান সচিবালয়ের সহায়তায় একজন স্থায়ী বিশেষ দূত নিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে নভেম্বরে আসিয়ান নেতাদের কাছে সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে।

অন্যদিকে, নেপিদো পাঁচ দফা পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি জানালেও আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এটিকেই মিয়ানমার সংকট সমাধানের মূল রূপরেখা হিসেবে ধরে রেখেছে।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন আবারও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ, অং সান সু চিসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি এবং মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ইন্দোনেশিয়া। তাদের মতে, পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়ন আসিয়ানের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (AAPP)-এর মহাসচিব ইউ টেইক নাইং বলেন, “জান্তা কোনো আপস করবে না, আবার আসিয়ানও পাঁচ দফা ঐকমত্য থেকে সরে আসবে না। ফলে মিয়ানমারের রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

এদিকে, সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং আগামী আগস্টের শুরুতে থাইল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। থাইল্যান্ড জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে আসিয়ানের সম্পর্ক পুনর্গঠনে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করতে চায় এবং দেশটিকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক জোটে পুনঃঅন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *