‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির দাবির আড়ালে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, শাহবাগে মাতৃভূমি সুরক্ষা আন্দোলনের সমাবেশ
Screenshot
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবির আড়ালে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে—এমন অভিযোগ তুলে রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ‘মাতৃভূমি সুরক্ষা আন্দোলন’।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতীয় সংহতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের প্রতি বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাতৃভূমি সুরক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাৎ ফরাজী সাকিব।

সংগঠনের যুগ্ম সদস্যসচিব রিয়াজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশবিরোধী নানা তৎপরতা চালাচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
বক্তারা দাবি করেন, পরিচয় ও অধিকার নিয়ে আলোচনা গণতান্ত্রিকভাবে হতে পারে। তবে এর আড়ালে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা প্রতিহত করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ থেকে কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে আরও সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়। পরিচয়, সংস্কৃতি ও অধিকার নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও এসব বিষয়ে সাংবিধানিক কাঠামো, প্রচলিত আইন ও জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।
সমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মঞ্চের আহ্বায়ক ও জনতার দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ফুয়াদ সাকি, আম-জনতার দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ আহম্মেদ রাজু, লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক, স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগরীর সাবেক সভাপতি ইব্রাহীম খলিল চৌধুরী এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেল মাহমুদ।

এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশের বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা ও জাতীয় সংহতি বজায় রাখতে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিচয় ও অধিকার নিয়ে আলোচনা যেন দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ও জাতীয় অখণ্ডতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।