যত্রতত্র পার্কিং ও যানজটে কতটুকু মিলছে ডিভাইডারের সুফল?
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কোর্টবাজার স্টেশনে যানজট নিরসন ও যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়কে স্থাপন করা হয়েছে রোড ডিভাইডার। তবে ডিভাইডার স্থাপনের পরও সড়কের দুই পাশে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, যাত্রী ওঠানামা এবং অব্যবস্থাপনা বন্ধ না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। বরং ব্যস্ত সময়ে দীর্ঘ যানজটে নাকাল হচ্ছেন পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে কোর্টবাজার স্টেশনে দেখা যায়, ডিভাইডার স্থাপনের পর যানবাহনগুলো নির্দিষ্ট লেন মেনে চলাচলের চেষ্টা করছে। কিন্তু সড়কের দুই পাশে বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, টমটমসহ বিভিন্ন যানবাহন যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকায় সড়কের কার্যকর অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে ডিভাইডার মেনে চলা যানবাহনও বিভিন্ন স্থানে এসে ধীরগতির হয়ে পড়ছে। একপর্যায়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
ব্যস্ত সময়ে কোর্টবাজারের যানজট আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময়মতো পৌঁছাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালগামী রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য যানজটের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
স্থানীয় পথচারী জসিম উদ্দিন বলেন, “ডিভাইডার স্থাপন করায় প্রথম দিকে মনে হয়েছিল যানজট কমবে। কিন্তু সড়কের পাশে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে আগের মতোই যানজট হচ্ছে। অনেক সময় কয়েক মিনিটের পথ যেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যেতে হলেও যানজটে আটকে থাকতে হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শুধু ডিভাইডার স্থাপন করলেই হবে না। ডিভাইডারের দুই পাশে অবৈধ পার্কিং বন্ধ, যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ডিভাইডার স্থাপন করেও যানজট নিরসনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
একাধিকবার সতর্ক করার পরও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের মতে, যানজট নিরসন ও সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন চলাচলের উদ্দেশ্যে ডিভাইডার স্থাপন করা হলেও সড়কের ওপর অব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকায় এর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। নির্দিষ্ট লেনে চলাচল করতে গিয়ে যানবাহনগুলো অনেক সময় মাঝপথেই আটকা পড়ছে।
সচেতন মহলের দাবি, কোর্টবাজার স্টেশনে যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা চালু, সড়কের ওপর যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নিয়মিত আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দিষ্টভাবে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের অপেক্ষায় আছি। সেটা আমাকে হোক বা অন্য কেউ হোক, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যানজট নিরসনের জন্য ডিভাইডার স্থাপনের পরও যদি সড়কের দুই পাশে অবৈধ পার্কিং ও দখল অব্যাহত থাকে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত সুফল আসবে কবে? সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগের দিকেই এখন তাকিয়ে কোর্টবাজারবাসী।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।