‘ছাত্র ইউনিয়নের মিথ্যাচার ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার’ প্রতিবাদ স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির

‘ছাত্র ইউনিয়নের মিথ্যাচার ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার’ প্রতিবাদ স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির

‘ছাত্র ইউনিয়নের মিথ্যাচার ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার’ প্রতিবাদ স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

‘ছাত্র ইউনিয়ন’ কর্তৃক স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টিকে জড়িয়ে মিথ্যাচার এবং ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক ও মুখপাত্র মুহিউদ্দিন রাহাত এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীর একটি হোটেলে চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে আদিবাসী শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে ছাত্র ইউনিয়ন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।

স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির নেতারা দাবি করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কোনো সংগঠনের উচিত নয় দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য উপস্থাপন করা। তারা বলেন, দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর আত্মপরিচয় ও ইতিহাস নিয়েও ছাত্র ইউনিয়ন ‘নৃতাত্ত্বিক মিথ্যাচার’ করেছে।

‘আদিবাসী’ পরিচয় নিয়ে বক্তব্য

বিবৃতিতে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরে। সংগঠনটির দাবি, বাংলাদেশে বাঙালি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ইতিহাস উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের Indigenous জনগোষ্ঠী ও ইউরোপীয় settler colonialism-এর ইতিহাসের সঙ্গে এক নয়।

তাদের ভাষ্য, ইউরোপীয় উপনিবেশবাদীরা সমুদ্রপথে গিয়ে এসব অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমি দখল করে সেখানে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করেছিল। এর ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলো ভূমি হারানো, বাস্তুচ্যুতি, নিপীড়ন ও রাজনৈতিক প্রান্তিকতার শিকার হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের উপনিবেশ স্থাপনের ইতিহাস নেই দাবি করে সংগঠনটি বলেছে, দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ঐতিহাসিক অভিবাসন ও বসতি স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের সাংবিধানিক পরিচয়কে ‘উপজাতি’ বা ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ছাত্র ইউনিয়নের মিথ্যাচার ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার’ প্রতিবাদ স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির

সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেশের সব জনগোষ্ঠীর অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয় ‘বাংলাদেশি’। তাদের দাবি, এই অভিন্ন জাতীয় পরিচয়কে বাদ দিয়ে ‘আদিবাসী’ বা ‘জুম্ম জাতীয়তা’র মতো পরিচয় সামনে আনা হলে তা রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে।

জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র নিয়েও বক্তব্য

বিবৃতিতে ২০০৭ সালে জাতিসংঘের গৃহীত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকারবিষয়ক ঘোষণাপত্রের প্রসঙ্গও তুলে ধরে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি।

সংগঠনটির দাবি, ওই ঘোষণার প্রেক্ষাপট মূলত আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাবরিজিনাল ও টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার, নিউজিল্যান্ডের মাওরি এবং কানাডার ইনুইটসহ ঐতিহাসিকভাবে উপনিবেশ ও দখলের শিকার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই ঐতিহাসিক কাঠামো প্রয়োগ করা যথাযথ নয় বলে মনে করে তারা।

সিএইচটিআরএফ আয়োজিত আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির আহ্বায়কের অংশগ্রহণ নিয়েও ছাত্র ইউনিয়নের প্রশ্ন তোলার সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।

স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির নেতারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে আয়োজিত আলোচনায় সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অংশগ্রহণকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তাদের দাবি, এ ধরনের আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত শোনা এবং সরকারের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।

১৫ জানুয়ারির সংঘর্ষ নিয়ে অভিযোগ

বিবৃতিতে গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সামনে সংঘর্ষের ঘটনাও তুলে ধরা হয়।

স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির নেতারা দাবি করেন, ওইদিন তাদের কর্মসূচিতে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ পক্ষ হামলা চালিয়েছিল এবং পুলিশের একাধিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে তাদের অবস্থানে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির নেতাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান

বিবৃতির শেষাংশে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির নেতারা ছাত্র ইউনিয়নকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিচয় ও ইতিহাস নিয়ে ‘ভিত্তিহীন’ বক্তব্য এবং ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি একই সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের যেকোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রশ্নের সমাধান সংবিধান, আইন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই হওয়া উচিত।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *