রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডাবল হত্যা মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার, উদ্ধার রক্তমাখা পাঞ্জাবি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘটিত জোড়া হত্যা মামলার এজাহারনামীয় এক আসামিকে রাজধানী ঢাকা থেকে র্যাবের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে ক্যাম্প ছেড়ে ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।
গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মক্তব ঘরের টিনের চাল থেকে ঘটনার সময় তার পরনে থাকা রক্তমাখা পাঞ্জাবি উদ্ধার করেছে এপিবিএন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম এতেসামুল হক ওরফে শাহীন (৩৭)। তিনি উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৬ ব্লকের বাসিন্দা।
১৪ এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া থানার মামলা নম্বর-১২ (১০/০৭/২০২৬), জিআর নম্বর-৩৯১/২৬-এর এজাহারনামীয় আসামি শাহীন। মামলার পর তিনি ক্যাম্প ছেড়ে ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যান।
তদন্তে নেমে এপিবিএন পুলিশ জানতে পারে, শাহীন তার রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি ও ব্যবহার করছিলেন। ওই পরিচয়পত্রে তার নাম শুধু ‘শাহীন’ উল্লেখ করা হয়। ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয় চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার দক্ষিণ বড়িশ্চর এলাকার মতিন কলোনির ঠিকানা।
পুলিশের দাবি, ভুয়া পরিচয়পত্রটি ব্যবহার করেই তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে শাহীনের অবস্থান শনাক্ত করে এপিবিএন। গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে লম্বাশিয়া পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জানে আলম মুনশী ও এসআই মো. মাঈন উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি দল র্যাবের সহযোগিতায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার বসুন্ধরা সিটির সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন বলে জানিয়েছে এপিবিএন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘটনার দিন তার পরনে থাকা পাঞ্জাবিটি উখিয়ার ৬ নম্বর ক্যাম্পের সি-৪ ব্লকে রাব্বানি মসজিদের উত্তর পাশে একটি মক্তব ঘরের টিনের চালের ওপর ফেলে রেখেছিলেন।
শাহীনকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই এলাকায় অভিযান চালায় এপিবিএন।
সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মক্তব ঘরের টিনের চাল তল্লাশি করে সেখানে পড়ে থাকা একটি রক্তমাখা পাঞ্জাবি উদ্ধার করা হয়। পরে জব্দতালিকা তৈরি করে আলামতটি জব্দ করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উদ্ধার হওয়া পাঞ্জাবিটি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। এটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত, তা ফরেনসিক ও অন্যান্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
১৪ এপিবিএন জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে এতেসামুল হক ওরফে শাহীনকে উখিয়া থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বিস্তারিত বিষয়বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
১৪ এপিবিএন অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বিষয়টি নিশ্চিত করে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, মামলার তদন্তে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ একটি আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে আত্মগোপনে থাকলেও শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।